Advertisement

ইনস্টাগ্রাম রিল দেখে কোটি টাকায় অণ্ডকোষ বিক্রির লোভ, প্রাণ গেল নিরীহ কিশোরের

গত ৬ অগাস্ট ভোপালে এক কিশোরকে খুন। ১১ অগাস্ট একটি জলাশয় থেকে দেহ উদ্ধার। ১৪ অগাস্ট শনাক্তকরণ। তদন্তে জানা উঠে এসেছে, রিল থেকে শরীরের অংশ বিক্রির মতো বিষয়।

ভোপালে রিল থেকে ভয়ঙ্কর অপরাধ।ভোপালে রিল থেকে ভয়ঙ্কর অপরাধ।
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 19 Aug 2026,
  • अपडेटेड 5:18 PM IST
  • ভোপালে এক কিশোরকে হত্যা।
  • অভিযুক্তকে পাকড়াও করল পুলিশ।

পুরুষের অণ্ডকোষের দাম ৬ কোটি টাকা। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভাইরাল রিলে এমনই দাবি। আর সেই রিল হাত ঘুরে পৌঁছে গেল মধ্যপ্রদেশের ভোপালের এক যুবকের ফোনে।  রিলের কথাই শিরোধার্য করে সে ঠিক করে ফেলল, অণ্ডকোষ বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করবে। এরপর কয়েক জন নাবালকের সঙ্গে মিলে ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সি কিশোরদের টার্গেট। তিন বারের চেষ্টায় ১৭ বছরের এক কিশোরকে খুন! খুনের পর তার দেহ থেকে অণ্ডকোষ বার করে নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি। দেখা গেল, কেনার জন্য কেউ নেই!

উপরের কাহিনি শুনে অবাস্তব মনে হলেও ঘোর সত্যি! কোটিপতি হওয়ার লোভে একটি ভাইরাল রিলের উপর ভরসা করে এক নিরীহ কিশোরের প্রাণ চলে গেল বেঘোরে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অণ্ডকোষের কোটি টাকার দাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ঘুরছে নানা দাবি। তাতে বলা হচ্ছে, আরবের দেশগুলিতে অণ্ডকোষের চাহিদা আছে। বিক্রি করলেই কোটি টাকার মালিক। যদিও এই দাবিগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সে প্রসঙ্গে পরে আসা যাবে। আগে ভোপালের ঘটনাটি পড়ে নেওয়া যাক।

একটি সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০ বছরের বিবিএ পড়ুয়া জোহেব পুলিশকে জানিয়েছে, একটি রিল দেখে কিশোরদের নিশানা করতে শুরু করে সে। কয়েকজন নাবালককে জুটিয়ে তৈরি করে একটি দল। অভিযোগ, দু'বার ব্যর্থ চেষ্টার পর গত ৬ অগাস্ট কলম এবং চাবির রিং বিক্রেতা এক কিশোরকে খুন করা হয়। তার দেহ থেকে বার করে নেওয়া হয় অণ্ডকোষ  কিন্তু যে জিনিস বিক্রি করে কোটি টাকা উপার্জনের স্বপ্ন জোহেব দেখছিল, তার কোনও ক্রেতাই পাওয়া যায়নি।

জোহেব নিজে সরাসরি খুনে করেনি বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। বরং সে অন্য অভিযুক্তদের নির্দেশ দিত। অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার শৈলেন্দ্র সিং চৌহান জানিয়েছেন, এই ঘটনায় এক নাবালক-সহ ১৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, মানুষের দেহের অঙ্গ বিদেশে পাঠানোর কোনও ষড়যন্ত্র ছিল কিনা, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement

পুলিশের দাবি, খুনের মূল চক্রী জোহেব নিজেকে মেডিক্যাল পড়ুয়ার মতো তুলে ধরত। অভিযোগ, সে আরও চার জনকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিল যে মানুষের গোপনাঙ্গ বিক্রি করে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। সে নিজের একটি ছোট দলও তৈরি করেছিল।

গত ৬ অগাস্ট ভোপালের ইকবাল ময়দানের কাছে অভিযুক্তেরা এক কিশোরের সঙ্গে দেখা করে। মারামারিতে সাহায্য করার নাম করে তাকে ফাঁদে ফেলা হয়। এরপর তাকে খুন করা হয়। খুনের খবর জোহেবকে জানানো হলেও সে ঘটনাস্থলে যায়নি বলে জানায় পুলিশ। তদন্তকারী দাবি, জোহেব অভিযুক্তদের এমন একটি ভিডিয়ো দেখিয়েছিল, যেখানে মৃতদেহ থেকে অণ্ডকোষ বের করার পদ্ধতি শেখানো হয়েছিল। ১১ অগাস্ট একটি জলাশয় থেকে ওই কিশোরের দেহ উদ্ধার হয়। তার মা আগেই নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। ১৪ অগাস্ট একটি ট্যাটু দেখে তিনি দেহটি নিজের ছেলের বলে শনাক্ত করেন।

পুলিশ সূত্রে খবর, ময়নাতদন্তে শরীরে জোরালো আঘাতের চিহ্নের পাশাপাশি অণ্ডকোষ না থাকার বিষয়টিও সামনে আসে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তেরা অণ্ডকোষের কোনও ক্রেতা খুঁজে পায়নি। এমনকি টিস্যু সংরক্ষণ বা বিক্রি করার পদ্ধতিও তাদের জানা ছিল না। অভিযোগ, প্রায় তিন দিন ওই দেহাংশ নিজেদের কাছে রাখার পর শেষপর্যন্ত তা পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ২০ বছরের জোহেব, ১৮ বছরের আমির এবং তিন নাবালককে আটক করেছে পুলিশ।

এবার আসা যাক অণ্ডকোষ বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা উপার্জনের সেই দাবির কথায়।

ঘটনার সূত্রপাত আরও কয়েক বছর আগে। ২০১৭ সালে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এক ব্যক্তিকে প্রায় ৮ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল পেনসিলভেনিয়ার একটি বিচারক। কারণ অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসক ভুল করে তাঁর একটি অণ্ডকোষ বাদ দিয়ে ফেলেছিলেন।

ওই ব্যক্তি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন এবং সেই মামলায় জয়ী হন। ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিপুল অর্থ পাওয়ার ঘটনাটিই পরে সমাজমাধ্যমে অন্য ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তৈরি হয় গুজব, একটি অণ্ডকোষের দাম নাকি কয়েক কোটি টাকা!

আসল ঘটনা কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা। ওই ব্যক্তিকে অণ্ডকোষ বিক্রির জন্য ৬ কোটি টাকা দেওয়া হয়নি। ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে দায়ের করা মামলায় জেতার পর আদালতের নির্দেশে তিনি ক্ষতিপূরণ পেয়েছিলেন। এর পর থেকেই সমাজমাধ্যমে দাবি ছড়াতে থাকে যে মানুষের অণ্ডকোষের দাম নাকি ৬ কোটি টাকা। কিন্তু এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও তথ্য দেখলেই চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করবেন না। গুজব ছড়াবেনও না। কারণ একটি মিথ্যা তথ্য কখনও কখনও শুধু অর্থের ক্ষতি নয়, মানুষের জীবনও কেড়ে নিতে পারে।

Read more!
Advertisement
Advertisement