Advertisement

মহিলা সহকর্মীকে কন্ডোম ছুড়ে মারার অভিযোগ IPS-এর বিরুদ্ধে, 'ও শারীরিক সম্পর্ক চাইত', পাল্টা দাবি অভিযুক্তের

সূত্রের খবর, রবিবার সন্ধ্যায় রেড্ডি তাঁর এক বন্ধুর বাড়িতে যান। সেখানেই তিনি বিষ পান করেন। যদিও তা আত্মহত্যার চেষ্টা ছিল কি না, সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

IPS-এর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ IPS-এর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ
Aajtak Bangla
  • হায়দরাবাদ ,
  • 21 Jul 2026,
  • अपडेटेड 11:57 AM IST
  • অভিযোগকারিণীর দাবি, রেড্ডি তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ও আপত্তিকর বার্তা পাঠাতেন
  • অন্যদের সামনে তাঁকে যৌন ইঙ্গিতমূলক ও কুরুচিকর মন্তব্য করতেন

হায়দরাবাদের ন্যাশনাল পুলিশ অ্যাকাডেমি এক ট্রেনি আইপিএস-এর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তাঁরই মহিলা সহকর্মীর। তার জেরে অভিযুক্ত বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সেখানে চিকিৎসা চলছে। 

অভিযুক্ত আইপিএসের নাম উদয় কৃষ্ণ রেড্ডি। তিনি সুইসাইড নোটও লিখেছেন। সেখানে উল্লেখ, তিনি মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চাননি। তবে বিয়ের পরও সেই সহকর্মী তাঁকে জোর করেছেন। বিয়ের পরও শারীরিক ও মানসিক সম্পর্ক রেখেছিলেন। পরে তাঁরই বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেন। তাই তাঁকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হচ্ছে। 

সূত্রের খবর, রবিবার সন্ধ্যায় রেড্ডি তাঁর এক বন্ধুর বাড়িতে যান। সেখানেই তিনি বিষ পান করেন। যদিও তা আত্মহত্যার চেষ্টা ছিল কি না, সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

কয়েক দিন আগে ৩০ বছর বয়সী ওই মহিলা ট্রেনি আইপিএস রেড্ডির বিরুদ্ধে স্টকিং, মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও  রেকর্ড করার অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে হায়দরাবাদ পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক ধারায় এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় FIR করে।

অভিযোগকারিণীর দাবি, রেড্ডি তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ও আপত্তিকর বার্তা পাঠাতেন। অন্যদের সামনে তাঁকে যৌন ইঙ্গিতমূলক ও কুরুচিকর মন্তব্য করতেন। রেড্ডি তাঁকে গালিগালাজ করতেন। অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ রেড্ডি জোর করে তাঁর মোবাইল ফোন নিয়ে পাসওয়ার্ড খুলতে বাধ্য করেন। ব্যক্তিগত চ্যাট দেখেন। 

এরপরের অংশে ওই মহিলা চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তাঁর দাবি, রেড্ডি তাঁকে জোর করে ঘরে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন। গলা টিপে ধরার চেষ্টা করেন, গলায় ছুরি ঠেকিয়ে আটকে রাখেন। সেই সময় তাঁর দিকে কন্ডোমের প্যাকেটও ছুড়ে মারেন। রেড্ডি তাঁর অজান্তে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও রেকর্ড করেন এবং পরে সেটি তাঁর স্বামীর কাছে পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি তাঁর মানহানি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও কুরুচিকর তথ্য ছড়ানোরও অভিযোগ তোলা হয়েছে।

Advertisement

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রেড্ডি। তাঁর পাল্টা দাবি, তিনি চাইতেন না ওই মহিলা তাঁর কাছে আসুক। কিন্তু মহিলা শুনতেন না। তিনিই জোর করে আসতেন। শারীরিক সম্পর্ক করতে চাইতেন। 

সুইসাইড নোটে লিখেছেন, 'আমি, উদয় কৃষ্ণ রেড্ডি এবং সেই মহিলা গত বছর ২০২৫-এর জুন থেকে সম্পর্কে ছিলাম। ওঁর বিয়ের পরেও আমাদের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক সম্পর্ক ছিল। ওঁই আমাকে বারবার হোয়াটসঅ্যাপ করে আমার ঘরে আসতে চাইতেন। সেদিনও ঝগড়া করতে এসেছিলেন। আত্মরক্ষার জন্যই আমি ভিডিও রেকর্ড করি। তার প্রমাণ আমার ফোনে রয়েছে।' 

আরও একটি লিখেছেন, '৯ জুলাই ২০২৬ উনি নিজেই আমার ঘরে এসে জানান, তিনি শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে চান। তিনিই আমাকে জড়িয়ে ধরে  চুমু খান। তাই প্রমাণ হিসেবে আমি ভিডিওটি রেকর্ড করি এবং পরে তাঁর স্বামীর কাছে পাঠাই। কারণ, আমি আগেও বহুবার আমার ঘরে না আসতে বলেছিলাম।' রেড্ডির আরও দাবি, পরে ওই মহিলা ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মারধরের অভিযোগ করেন। 

পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে।এদিকে রেড্ডি এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। সর্দার বল্লভভাই পটেল ন্যাশনাল পুলিশ অ্যাকাডেমির আধিকারিকরাও হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন।
 

Read more!
Advertisement
Advertisement