
এ এক অদ্ভুত ঘটনা। সেকেন্দ্রাবাদ ক্যান্টনমেন্টের বোল্লারামের হাই সিকিউরিটি মিলিটারি এলাকা থেকে গুলি ও বন্দুক চুরির অভিযোগ উঠেছে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা হাবিলদারের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই সেই সেনা হাবিলদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে হায়দরাবাদের ২০ ব্যাটালিয়ন, মাদ্রাজ রেজিমেন্টের কোটে ও ম্যাগাজিন রুম থেকে বন্দুক এবং প্রায় ১,৯০০ রাউন্ড গুলি চুরির অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম উপ্পুথোল্লা মল্লেশ। তার বয়স ৩৭ বছর।
২০১০ সালে সেনাবাহিনীতে কাজে যোগ দিয়েছিলেন মল্লেশ। চলতি বছরের ৩০ জুন রিটায়ার করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ৩০ ও ৩১ অগাস্টের মাঝে কোনও এক রাতে চুরির কাজটি সেরে ফেলেন তিনি।
ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, সময়ের আগেই অবসর নিতে হয়েছিল। তাই নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন মল্লেশ। সেই ক্ষোভ থেকেই চুরি করে থাকতে পারেন।
কী কী চুরি গিয়েছিল?
পুলিশের তরফে জানান হয়েছে, চুরি যাওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল চারটি একে-২০৩ রাইফেল, একটি আইএনএসএএস রাইফেল, সাতটি পিস্তল, ম্যাগাজিন, একটি প্যাসিভ নাইট-ভিশন বাইনোকুলার এবং প্রায় ১৯০০ রাউন্ড গুলি।
কীভাবে চুরি হয়েছিল?
বিষয়টা নিয়ে মুখ খুলেন তেলঙ্গানার ডিজিপি সিভি আনন্দ। তিনি জানিয়েছেন, মল্লেশ সেনা ইউনিটে ঢুকে পড়েন। সেখান থেকে ম্যাগাজিনের কভারগুলি নিয়ে নিজের বালাজি নগরের বাড়িতে ফিরে যান। সিসিটিভ ফুটেজে দেখা যায়, ভোর ৪টা ৩৪ মিনিটে তিনি বাড়িতে পৌঁছেছিলেন।
এরপর নিজের সাদা রঙের ব্রেজা গাড়িতে ম্যাগাজিনের ব্যাগটি রাখেন তিনি। সেখান থেকে একটি মন্দিরে যান, যেখানে আগে থেকেই চুরি করা আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি লুকিয়ে রেখেছিলেন। সমস্ত অস্ত্র ও গুলি গাড়িতে তুলে নিয়ে আচমপেটের উদ্দেশে রওনা দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, টোল গেট এড়াতে মল্লেশ আউটার রাইডিং রোড, সাগর রিং রোড ও বেঙ্গালুরু গেট রোড দিয়ে যান। ইচ্ছাকৃতভাবেই শ্রীসাইলাম রোড এড়িয়ে যান তিনি।
যাত্রাপথে যাত্রী তুলেছিলেন
পুলিশের মতে, আচমপেট যাওয়ার পথে মল্লেশ যাত্রী গাড়িতে যাত্রী তুলেছিলেন। তিনি নিজের মতো করে প্রমাণ তৈরি করতে চাইছিলেন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডিজিপি আনন্দ জানান, চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর থেকে মল্লেশ নিজের গাড়িতে ভাড়া খাটছিলেন। সাগর রিং রোডের ট্যাক্সি পয়েন্টের কাছে চারজন যাত্রীকে গাড়িতে তোলেন তিনি। তাঁদের দেবরাকোন্ডায় নামিয়ে দিয়ে ভাড়া নেন।
এরপর দিণ্ডিতে আরও দু’জন যাত্রীকে গাড়িতে তোলেন মল্লেশ। তাঁদের কাছ থেকেও ভাড়া নিয়ে আরও কিছুটা এগিয়ে গিয়ে নামিয়ে দেন। পুলিশের দাবি, ৩১ অগস্ট দুপুর ১টা ১৫ মিনিট নাগাদ আচমপেটে পৌঁছন মল্লেশ।
উদ্ধার চুরি যাওয়া অস্ত্র
মল্লেশকে ঘিরে পুলিশের সন্দেহ বাড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি নার্ভাস হয়ে পড়েন। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর সব কিছু অন্যত্র সরিয়ে ফেলেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত ১০ সেপ্টেম্বর মল্লেশ চুরির কথা স্বীকার করেন। তাঁর স্বীকারোক্তির পর ডিসিপি-এর নেতৃত্বে হায়দরাবাদ টাস্ক ফোর্সের দল অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া সমস্ত অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে। এই ঘটনায় এখনও চলছে তদন্ত।