
আইআইটি বম্বের ছাত্র সাহিল ওয়াকোড়ের আত্মহত্যার ঘটনায় উত্তাল গোটা দেশ। অধ্যাপকের বিরুদ্ধে উঠেছে জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ। বুধবার গোটা ঘটনায় নতুন মোড়। আজ তক-এর হাতে এসেছে পরীক্ষাকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ। ঘটনার দিন পরীক্ষাকেন্দ্রে ঠিক কী ঘটেছিল, সেই ফুটেজে অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, পরীক্ষার হলে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন সাহিল। অভিযোগ, মোবাইল থেকে প্রশ্নপত্র ChatGPT-তে আপলোড করে উত্তর বের করার চেষ্টা করছিলেন।
অভিযোগ, সাহিল যখন ফোনে ChatGPT ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র আপলোড করার চেষ্টা করছিলেন, তখনই পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ ডুলার নজরে পড়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে সাহিলের কাছে যান ওই অধ্যাপক। তাঁর মোবাইল দেখার পর সাহিলকে আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে বলেন। ফুটেজের শেষ অংশে দেখা যাচ্ছে, সাহিলকে পরীক্ষার হল থেকে বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন অধ্যাপক ডুলা।
এই ঘটনার পরেই সাহিলের ঘর থেকে উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। অধ্যাপক ডুলার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি আইনের আওতায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্রাইম ব্রাঞ্চকে।
সাহিলের পরিবারের অভিযোগ কী?
আইআইটি বম্বে কর্তৃপক্ষের দাবি,পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের জন্য সাহিলকে শুধুমাত্র নিয়মমাফিক কাউন্সেলিং করা হয়েছিল। পরীক্ষার নিয়ম সম্পর্কে জানানো হয়েছিল। তবে সাহিলের পরিবার এবং আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের অভিযোগ, পরীক্ষার হল থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে হেনস্থা ও অপমান করা হয়। এমনকি জাতিবিদ্বেষী মন্তব্য করার অভিযোগও উঠেছে। সেই অপমানেই সাহিল আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেন বলে দাবি পরিবারের।
এই সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে তদন্তকারী সংস্থাগুলি একাধিক সূত্র জোড়ার চেষ্টা করছে। দাবি করা হচ্ছে, পরীক্ষার সময় প্রশ্নগুলি ChatGPT-তে আপলোড করে তার উত্তর পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সাহিল। যে পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে এই অভিযোগ, সেখানে পরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক ডুলা।
ঘটনার পর অধ্যাপক ডুলার বিরুদ্ধে জাতিগত মন্তব্য করা, মানসিকভাবে হেনস্থা এবং হুমকি দেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলে সাহিলের পরিবার। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মুম্বই পুলিশ আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করে। পাশাপাশি এসসি/এসটি আইনের একাধিক ধারাও যুক্ত করা হয়। তবে সাহিলের পরিবারের অভিযোগ এবং আইআইটি বম্বে কর্তৃপক্ষের দাবির মধ্যে ফারাক রয়েছে।
এখন দেখার, সিসিটিভিতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভিতরের যে ভিডিও দেখা যাচ্ছে, তা তদন্তকে কতটা এগিয়ে নিয়ে যায়।