
বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি আবহাওয়া সিস্টেম শক্তি বাড়িয়ে পরিণত হয়েছে নিম্নচাপে। আগামী কয়েক দিনে সেটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা। এর জেরে বাংলার আবহাওয়া বড় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে বলে পূর্বাভাস। শুক্রবার সম্ভাব্য সাইক্লোন নিয়ে বড় কথা বলে দিল ভারতের মৌসম ভবন। তারা জানাল, ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে নিম্নচাপ।
মৌসম ভবন জানাল, শক্তি বাড়িয়ে এই নিম্নচাপ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল এবং সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশার দিকে এগোতে পারে। নিম্নচাপটির গতিপথ এবং শক্তি কতটা বাড়ে, সে দিকেই নজর রাখা হচ্ছে। তবে নিম্নচাপটি কোথায় আছড়ে পড়বে, বা আদৌ স্থলভাগে আছড়ে পড়বে কিনা, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি মৌসম ভবন।
কীভাবে তৈরি হল এই নিম্নচাপ?
বৃহস্পতিবারই বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্তের উপস্থিতির কথা জানিয়েছিল মৌসম ভবন। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ওই ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছিল। তখনই আবহাওয়া দফতর জানিয়েছিল, ঘূর্ণাবর্তটি শক্তি বাড়িয়ে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। শুক্রবারের বুলেটিনে সেই নিম্নচাপ তৈরির খবর নিশ্চিত করা হল। ফলে আগামী দিনে সেটি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা।
কবে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে নিম্নচাপ?
মৌসম ভবনের পূর্বাভাস, ২৪ অক্টোবরের মধ্যে নিম্নচাপটি গভীরতর হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। ২৫ অক্টোবর সেটি আরও শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর ২৬ অক্টোবর সকালের মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা। তার পরবর্তী ২ দিনে আরও শক্তি সঞ্চয় করে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল এবং সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশার দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
অক্টোবরে ঘূর্ণিঝড় স্বাভাবিক?
আবহাওয়া বিজ্ঞানের পরিভাষায়, নিম্নচাপের ফলে বায়ুর চাপ কমে যায়। বাতাসের গতিবেগ বাড়তে থাকে। অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকলে সেই ব্যবস্থা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রবল হাওয়া এবং ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। আগামী কয়েক দিনে নিম্নচাপটি কীভাবে শক্তি সঞ্চয় করে, তার উপরেই ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা এবং সম্ভাব্য প্রভাব নির্ভর করবে। আর অক্টোবরে বর্ষা বিদায়ের পর অনুকূল বায়ুমণ্ডলের কারণে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়। এটা খুবই স্বাভাবিক।