
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সীমান্ত বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ বর্ডারগুলির মধ্যে একটি। মোট ৪ হাজাক ৯৬ কিমি দীর্ঘ সীমান্তের মধ্যে ৬০০ কিমি এলাকা এখনও ডার্ক জোনেই রয়েছে। এই ডার্ক জোনে পর্যাপ্ত কাঁটাতার নেই। অন্ধকার এলাকা, সূর্যের আলো প্রায় ঢোকেই না, মোবাইল নেটওয়ার্কও ভীষণ দুর্বল। নদী ও ঘন জঙ্গলে ভরা। এই জায়গাগুলিই আসলে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, জঙ্গি, দুষ্কৃতীদের ঢোকার রাস্তা।
এখনও পর্যন্ত সম্ভব হয়নি,কারণ পদে পদে চ্যালেঞ্জ
১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় রেডক্লিফ লাইনে তৈরি এই সীমান্ত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তৈরি হয়েছিল। বর্ডারে এই অংশগুলিতে নদী, ঘন জঙ্গল, খাঁড়ি ও প্রত্যন্ত কিছু গ্রাম রয়েছে। এই ধরনের এলাকা ভারত ও বাংলাদেশ, দুই তরফেই রয়েছে। ২০১৫ সালে এই অঞ্চলকে কাঁটাতারের আওয়াতায় আনার চেষ্টা শুরু হলেও, এখনও পর্যন্ত সম্ভব হয়নি,কারণ পদে পদে চ্যালেঞ্জ।
৬০০ কিমি ডার্ক জোন কোথায় কোথায় রয়েছে?
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মধ্যে ডার্ক জোন সবচেয়ে বেশি রয়েছে পশ্চিমবঙ্গেই। পশ্চিমবঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ বর্ডার রয়েছে ২ হাজার ২১৭ কিমি। তার মধ্যে প্রায় ১৬০০ কিমি কাঁটাতার রয়েছে। ৬০০ কিমি কাঁটাতার নেই। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে ত্রিপুরায় (৮৫৬ কিমি), মেঘালয়ে (৪৪৩ কিমি), মিজোরাম (৩১৮ কিমি)।
ডার্ক জোন রয়েছে মূলত পশ্চিমবঙ্গে ৬টি জেলায়
যে ৬০০ কিমি কাঁটাতার নেই, সেই অঞ্চলটি পশ্চিমবঙ্গে মূলত মুর্শিদাবা, মালদা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে পড়ে। এমনও কিছু গ্রাম আছে, যেখানে পৌঁছনোই মুশকিল। এতটাই প্রত্যন্ত। প্রায় ১৭৫ কিমি এমন এলাকা রয়েছে যেখানে শুধুই নদী ও জলভূমি।
তা হলে উপায় কী?
BSF এই ৬০০ কিমি এলাকায় কাঁটাতার দিতে মূলত কম্প্রিহেনসিভ ইন্টিগ্রেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের প্ল্যান করছে। যেমন লেসার ওয়াল, থার্মাল ইমেজার, আন্ডারওয়াটার সেন্সর ও ইনফ্রা রেড ক্যামেরা। কারণ এই সব এলাকায় কাঁটাতার তৈরি কার্যত অসম্ভব।