
India Cough Syrup Ban Under 2 Years: বাড়ির খুদে সদস্যের একটু কাশি হলেই মায়েরা অস্থির হয়ে পড়েন। ড্রয়ার থেকে সিরাপের বোতল বের করে দু’চামচ খাইয়ে দিলেই শান্তি। কিন্তু এবার সেই অভ্যেসে আমূল বদল আনার সময় এসেছে। 'ন্যাশনাল ফর্মুলারি অফ ইন্ডিয়া' (NFI)-র ২০২৬ সালের সর্বশেষ নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কাশির সিরাপ এক্কেবারে নিষিদ্ধ। চিকিৎসকদের সাফ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই বয়সের শিশুদের জন্য কোনওভাবেই যেন কফ সিরাপ বা এক্সপেক্টোর্যান্ট প্রেসক্রাইব করা না হয়।
কেন এই নির্দেশ?
গত ২০২৫ সালে ভারতে কাশির সিরাপে থাকা ক্ষতিকারক ‘ডায়েথিলিন গ্লাইকল’ (DEG) এবং ‘ইথিলিন গ্লাইকল’ (EG)-এর মতো বিষাক্ত উপাদানের জেরে অন্তত ২৪ জন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। সেই কালো ছায়া থেকেই শিক্ষা নিয়েছে কেন্দ্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট শিশুদের জন্য এই সিরাপগুলির কোনও বিশেষ উপযোগিতা তো নেই-ই, উল্টে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। এমনকি ৫ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের সিরাপ দেওয়ার ক্ষেত্রেও চিকিৎসকদের চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কাশির সিরাপ খেলে কাশি সাময়িকভাবে কমলেও, ফুসফুসের সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করা এই প্রাকৃতিক রিফ্লেক্সটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
সিরাপের বদলে ঘরোয়া সমাধান
সিরাপের বোতল যখন বাতিলের খাতায়, তখন খুদেকে সুস্থ রাখার ভরসা কী? নতুন নির্দেশিকায় কিছু নিরাপদ উপায়ের কথা বলা হয়েছে:
জলীয় খাবার: শিশুকে প্রচুর পরিমাণে তরল পান করান, যাতে কফ পাতলা হয়ে বেরিয়ে যেতে পারে।
ন্যাসাল ড্রপ: নাক বন্ধ থাকলে সেলাইন ন্যাসাল ড্রপ ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ।
মধুর ম্যাজিক: শিশুর বয়স ১ বছরের বেশি হলে দৈনিক এক চামচ মধু গলার অস্বস্তি কমাবে। তবে এক বছরের নিচে শিশুদের মধু দেবেন না (বটুলিজম-এর ঝুঁকি থাকে)।
আর্দ্রতা: ঘরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন বা ভেজা ভাপ নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
বিশ্রামের কায়দা: ঘুমানোর সময় শিশুর মাথা সামান্য উঁচুতে রাখুন, এতে শ্বাস নিতে সুবিধে হয়।
২০২৫-এর সেই ট্র্যাজেডি যেন আর না ফেরে, তাই ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোর ওপরও খাঁড়া ঝুলিয়েছে কেন্দ্র। এখন থেকে প্রতিটি ব্যাচ অনুমোদিত ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক। কাঁচামাল থেকে শুরু করে চূড়ান্ত উৎপাদন, প্রতিটি পদক্ষেপে থাকবে কড়া নজরদারি।