
ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বড়সড় শক্তি প্রদর্শনে নামছে বিরোধী INDIA জোট। 'ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও' স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার কথা বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি দলীয় কর্মী, ছাত্র সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তুলবে তারা।
আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রবিবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর মিন্টো রোড ও কনট প্লেসের সংযোগস্থল থেকে মিছিল শুরু হবে। সেখান থেকে মিছিল গিয়ে পৌঁছবে রামলীলা ময়দানে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে সমাবেশ। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবন থেকে বাসে করে মিছিলের সূচনাস্থলে যাওয়ার কথা INDIA জোটের শীর্ষ নেতাদের।
সমাবেশ ঘিরে রামলীলা ময়দানে প্রস্তুতিও তুঙ্গে। মূল মঞ্চের উপরে তৈরি করা হয়েছে বিশাল তেরঙা ছাউনি। সেখানে বসবেন বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা। পাশাপাশি INDIA জোটের বিভিন্ন রাজ্য শাখার প্রতিনিধিদের জন্য আলাদা মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। মাঠজুড়ে বসানো হচ্ছে সাদা ছাউনি দেওয়া তাঁবু, ব্যারিকেড, অস্থায়ী মঞ্চ এবং নির্দিষ্ট ঘেরাটোপ। সমাবেশে পানীয় জলের ব্যবস্থা, মহিলাদের জন্য পৃথক শৌচাগার এবং ভিড় সামলাতে স্বেচ্ছাসেবক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আয়োজকদের।
দেশজুড়ে কর্মী-সমর্থকদের জমায়েতের প্রস্তুতি
রবিবারের সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতীয় যুব কংগ্রেসের দাবি, ২০ হাজারেরও বেশি কর্মী এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সংগঠনের জাতীয় সভাপতি উদয় ভানু চিব এবং জাতীয় ইনচার্জ মণীশ শর্মা নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাবদিহির দাবি তুলেছেন। মণীশ শর্মার কথায়, 'ভোট চুরি শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিষয় নয়। এটি প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারের সঙ্গে জড়িত।'
জম্মু ও কাশ্মীর থেকেও কংগ্রেস কর্মীরা দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। জম্মু ও কাশ্মীর প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (JKPCC) প্রধান মুখপাত্র রবীন্দর শর্মা জানিয়েছেন, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে হাজার হাজার দলীয় কর্মী সমাবেশে যোগ দেবেন। তাঁর অভিযোগ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলি চাপের মুখে রয়েছে। গণতান্ত্রিক অধিকার এবং নির্বাচনী স্বচ্ছতা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
এই কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়েছে অভিজিৎ দীপকের ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনও। ছাত্রছাত্রী, যুব সমাজ, মহিলা, শ্রমিক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদেরও সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে INDIA জোট।
নিরাপত্তায় ৪ হাজারের বেশি পুলিশকর্মী
সমাবেশ ও মিছিল ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা রেখেছে দিল্লি পুলিশ। মিছিলের রুট এবং রামলীলা ময়দান মিলিয়ে মোতায়েন থাকবেন ৪ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী। পাশাপাশি থাকবে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর একাধিক কোম্পানি।
রামলীলা ময়দানকে মোট ১৪টি নিরাপত্তা জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি জোনের দায়িত্বে থাকবেন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যাদার একজন আধিকারিক। গোটা জমায়েতের উপরে নজরদারি চালাতে ব্যবহার করা হবে ২০০-রও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন এবং পুলিশের শরীরে লাগানো ক্যামেরা। মাঠের ভিতরেই তৈরি করা হয়েছে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।
আয়োজকদের দাবি, সমাবেশে ১০ লক্ষ পর্যন্ত মানুষের জমায়েত হতে পারে। যদিও দিল্লি পুলিশের অনুমান, ৫০ হাজার মানুষ উপস্থিত থাকতে পারেন। পুলিশ জানিয়েছে, ফাঁকা অবস্থায় রামলীলা ময়দানে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার মানুষের জায়গা হতে পারে।
রবিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দিল্লির বেশ কিছু এলাকায় যান চলাচলে বিধিনিষেধ জারি থাকবে। আইটিও, দিল্লি গেট, রাজঘাট, আজমেরি গেট এবং তুর্কমান গেট সংলগ্ন এলাকায় যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে।
'প্রতিবাদের পাশাপাশি একটু কেনাকাটাও করুন'
রবিবারের সমাবেশ ঘিরে ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দিল্লির চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (CTI) কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সনিয়া গান্ধীর কাছে আবেদন জানিয়েছে, তিনি যেন হস্তক্ষেপ করে দীপাবলির পর পর্যন্ত সমাবেশ পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, যান চলাচলে বিধিনিষেধের জেরে দিল্লির প্রায় ২০টি বড় বাজারে ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে রবিবারের কর্মসূচির আগে ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। দিল্লিতে যাঁরা সমাবেশে যোগ দিতে আসবেন, তাঁদের প্রতিবাদ, মিছিল ও সভায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় দোকান থেকে কেনাকাটারও আবেদন জানিয়েছেন তিনি। দীপাবলি, ছট এবং ভাইফোঁটার উৎসবের মরশুমে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাহায্য করতেই তাঁর এই আবেদন।
এক্স হ্যান্ডলে রাহুল লিখেছেন, 'প্রতিবাদ, মিছিল ও সমাবেশে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি একটু কেনাকাটাও করুন। এতে আমাদের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাহায্য হবে।' রাহুলের দাবি, এই সমাবেশের ফলে ব্যবসায়ীদের কোনও ক্ষতি হবে না। উল্টে BJP ভয় পেয়েই ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাঁর কথায়, 'মিছিল হবে, সমাবেশ হবে। পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ মানুষ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ছোট ছোট দোকান থেকেও জিনিসপত্র কিনবেন।'