
September 30 INDIA Bloc Meeting: নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। এহেন আবহে বৈঠকে বসতে চলেছে বিরোধীদের INDIA ব্লক। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠক। তাতে INDIA ব্লকের শীর্ষ নেতারা থাকবেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে(Gyanesh Kumar) নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাই নিয়েই বিরোধীদের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হতে পারে। গত কয়েক দিন ধরেই INDIA ব্লকের দলগুলি এই মেগা বৈঠক ডাকার বিষয়ে আলোচনা করছিল।
সূত্রের খবর, এই মিটিংয়ের প্ল্যানের পিছনে মূল ভূমিকা মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনিই কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। দ্রুত মিটিং ডাকার আর্জি জানান। অন্যদিকে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবিও বিরোধী দলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। বিভিন্ন INDIA শরিক তো বটেই, জোটের বাইরে থাকা বিজেপি-বিরোধী দলগুলির সঙ্গেও আলোচনা করা হয়।
সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সংবাদপত্রে নির্বাচন কমিশনের ভিতরে মতপার্থক্য নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। তারপর থেকেই বিরোধী দলগুলি সরব হয়েছে। উক্ত রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, ভোটার তালিকায় SIR সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনার আপত্তি জানিয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, মতামত আদানপ্রদান ও আলোচনা কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার অংশ। এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই।
এহেন পরিস্থিতিতে CEC জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে বিরোধীদের একাংশ। তাঁকে পদ থেকে সরানোর দাবিতে নতুন করে প্রস্তাব আনার প্রস্তুতিও চলছে বলে খবর। লোকসভা ও রাজ্যসভা; দুই কক্ষেই এ নিয়ে নোটিস দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
ফোনে কথা মমতা-বেবির
বৈঠকের প্রস্তুতির আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এম এ বেবির মধ্যে ফোনে কথা হয়েছে। দুই নেতাই বিরোধী দলগুলিকে এক জায়গায় এনে নির্বাচন কমিশন এবং ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার পক্ষে বলে জানা গিয়েছে। বেবি এর আগে INDIA ব্লক এবং অন্যান্য বিজেপি-বিরোধী দলের নেতাদের চিঠিও দিয়েছিলেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও কথা বলেন বলে সূত্রের খবর। দ্রুত INDIA ব্লকের বৈঠক ডাকার জন্য তিনি আবেদন জানান। সেই আলোচনার পরই ৩০ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের পরিকল্পনা করা হয়।
এর আগে INDIA ব্লকের কয়েকটি দল জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবি জানিয়েছিল। নতুন করে ইমপিচমেন্ট নোটিস দেওয়ার প্রস্তুতির আলোচনাও হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
ফলে ৩০ সেপ্টেম্বরের বৈঠক বিরোধী দলগুলির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে এই বৈঠকে কোন কোন দলের শীর্ষ নেতা উপস্থিত থাকেন, সেদিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের। বৈঠকের পর বিরোধীরা যৌথ ভাবে কোনও কর্মসূচি ঘোষণা করে কি না, সেটিও দেখার।