
আমেরিকা ও ভারতের মধ্যে ট্রেড ডিল নিয়ে আলোচনা চলছে কয়েকমাস ধরেই। তা সত্ত্বেও ভারত ও চিনকে বারবার মোটা অঙ্কের ট্যারিফ চাপানোর হুমকি দিয়ে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পকে শায়েস্তা করতে এ বার ভারত ও চিন একটি অন্য খেলা খেলতে চলেছে। এই খেলা কিন্তু ভবিষ্যতে গ্লোবাল সাপ্লাই চেন বদলে দিতে পারে!
আমেরিকাকে সবক শেখাতে ভারত-চিনের নয়া ফ্রেমওয়ার্ক
BRICS সামিটে যোগ দিতে ভারতে আসছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই সফরের আগে ভারত ও চিনের মধ্যে একটি বড় লগ্নির ফ্রেমওয়ার্ক তৈরিরও তোড়জোড় চলছে। ভারতের জন্য বড়সড় বিনিয়োগের প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারে চিন। যা ভারতের জন্য বুস্টার। অন্যদিকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কও আরও মজবুত হবে। এই ভাবে ভারত ও চিন মিলে গ্লোবাল সাপ্লাই চেনে বড় বদল ঘটাতে পারে।
মোদি-জিনপিং সাক্ষাৎ করবেন
ইকোনমিক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাণিজ্য বিনিময় সহজতর করতে এবং চিনা বিনিয়োগ বাড়াতে ভারত ও চিন একটি নতুন বিনিয়োগ কাঠামো বা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির করার প্ল্যান করছে। কূটনৈতিক সম্পর্কের ব্যাপক উন্নতির মাঝে এই দুই প্রতিবেশী দেশ বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে চায়। আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর BRICS শীর্ষ সম্মেলনে চিন এই বিনিয়োগ কাঠামোটি ঘোষণা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করবেন।
এই বৈঠকে শি জিনপিং ভারতের জন্য একটি বিনিয়োগ প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সাম্প্রতিক বেজিং সফরের সময় এই বৈঠকের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছিল এবং এই সফরের পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হতে পারে।
নয়া বিনিয়োগ ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে কী ঘটবে?
এই ফ্রেমওয়ার্কে সমুদ্রপথে সহজ প্রবেশাধিকারসহ একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি বিওয়াইডি-সহ চিনের বৈদ্যুতিক যানবাহন সংস্থাগুলিকে ভারতীয় বাজারে আরও বেশি সুযোগ দেবে বলেও মনে করা হচ্ছে। আরেকটি প্রস্তাবে চিনের অর্থায়নে ভারতে একটি রফতানি খাত প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে, যা তৃতীয় কোনও দেশে রফতানি সহজতর করতে পারে। ২০১৯ সালের পর শি জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফরকে কাজে লাগিয়ে প্রস্তাবিত রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে সম্ভাব্য বিনিয়োগ ঘোষণা করতে চিন আগ্রহী।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, মোট বিনিয়োগ প্যাকেজটি বিরাট বড় না-ও হতে পারে, কারণ ৬ বছরের অচলাবস্থার পর উভয় পক্ষই ধীরে ধীরে সম্পর্ক উন্নত করা এবং মতপার্থক্য নিরসনের ওপর মনোযোগ দিচ্ছে। ভারত অ-কৌশলগত খাতে চিনা বিনিয়োগের অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ করার কথাও বিবেচনা করছে, যদিও LAC (Line of Actual Control), প্রতিরক্ষা এবং অন্যান্য সংবেদনশীল এলাকা সম্পর্কিত প্রকল্পগুলির ওপর বিধিনিষেধ বহাল থাকবে।
ভারত চিনের কাছ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি ও অত্যাবশ্যকীয় কাঁচামালের সহজলভ্যতা সম্পর্কে আশ্বাস চাইছে। প্রতিবেদন অনুসারে, এই সরবরাহ পথগুলিকে আরও নির্ভরযোগ্য করতে এবং ভারতীয় শিল্পের জন্য প্রবেশাধিকার জোরদার করতে প্রচেষ্টা চলছে। দুই দেশের মধ্যের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ভারত বৃহত্তর চিনা বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি পণ্যসহ ভারত থেকে আমদানি বৃদ্ধির জন্যও চাপ দিচ্ছে।