
India Defence News: ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপের পথে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিলের আগামী বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রকল্পে ছাড়পত্র মিলতে পারে। নতুন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ, সেনাপ্রধান এবং নৌপ্রধানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই বৈঠকে রাফাল এবং এলসিএ তেজস যুদ্ধবিমানের জন্য হামার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র, ভারবা স্বল্প পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ডিআরডিও তৈরি দেশীয় ম্যান পোর্টেবল অ্যান্টি ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল, ফিক্সড উইং সিউডো স্যাটেলাইট এবং নৌবাহিনীর জাহাজভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো একাধিক বড় প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলির মধ্যে রয়েছে ডিআরডিও তৈরি দেশীয় ম্যান পোর্টেবল অ্যান্টি ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল বা এমপি এটিজিএম। প্রস্তাব অনুযায়ী ভারতীয় সেনাবাহিনী ১০০টি লঞ্চার, ২৩০০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং পাঁচটি সিমুলেটর পেতে পারে। এই অস্ত্র ব্যবস্থা ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড তৈরি করবে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য মূল্য ২৬০০ কোটিরও বেশি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বেসরকারি শিল্প সংস্থাকেও উৎপাদনে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিমানবাহিনী এবং নৌবাহিনীর আক্রমণ ক্ষমতা আরও বাড়াতে ৬০০টি হামার নির্ভুল আকাশ থেকে ভূমিতে আঘাত হানা ক্ষেপণাস্ত্র কেনার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে। মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগের আওতায় ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করবে। ২০২০ সালে গালওয়ান সংঘর্ষের পর জরুরি ভিত্তিতে ভারতীয় বাহিনীতে হামার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। বর্তমানে ফরাসি সংস্থা সাফরানের প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় দেশেই এর উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ২৪০০ কোটি টাকা। রাফাল, এলসিএ তেজস এবং নৌবাহিনীর রাফাল মেরিন যুদ্ধবিমানে এই অস্ত্র ব্যবহার করা হবে।
ভারতীয় সেনার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে রাশিয়ার ভারবা স্বল্প পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাও কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতীয় সংস্থা অ্যাড ডিফেন্স লিমিটেড এই ব্যবস্থা উৎপাদন করবে। এটি বর্তমানে ব্যবহৃত ইগলা ক্ষেপণাস্ত্রের আরও আধুনিক সংস্করণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়াও সফটওয়্যার ডিফাইন্ড রেডিও, কামিকাজে ড্রোন, ড্রোন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, স্করপিন শ্রেণির সাবমেরিন এবং আরও কয়েকটি আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রকল্প নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। দেশের প্রতিরক্ষা অবকাঠামোকে আধুনিক ও আত্মনির্ভর করে তুলতে এই প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।