Advertisement

সমুদ্রের 'ধুরন্ধর', ভারতীয় নৌসেনার হাতে আসছে ২ MQ-9B Sea Guardian ড্রোন

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল লিজ মডেল। আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সরাসরি কেনার প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল হতে পারে। সেখানে লিজের মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে দ্রুত নতুন প্রযুক্তি হাতে পাওয়া যায়।

এই সেই ড্রোন এই সেই ড্রোন
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ,
  • 17 Aug 2026,
  • अपडेटेड 4:50 PM IST
  • এই ড্রোনে রয়েছে উন্নত সেন্সর, অত্যাধুনিক সিস্টেম এবং অ্যাডভান্সড পেলোড
  • ফলে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং রেকনেসাঁ বা অনুসন্ধানমূলক অভিযানে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে

সমুদ্র নজরদারি ও নিরাপত্তা আরও বাড়াতে বড় পদক্ষেপ করল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। সোমবার, ১৭ অগাস্ট আমেরিকান সংস্থা জেনারেল অ্যাটমিক্স অ্যারোনটিক্যাল সিস্টেমস ইনক (GA-ASI)-এর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত। চুক্তি অনুযায়ী, ভারতীয় নৌবাহিনীকে দুটি MQ-9B Sea Guardian High-Altitude Long-Endurance (HALE) Remotely Piloted Aircraft System ৩০ মাসের জন্য লিজে দেওয়া হবে। এই চুক্তির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১,৯৪৩ কোটি টাকা।

প্রতিরক্ষা সূত্রের মতে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিযোগিতা এবং সমুদ্র নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত। MQ-9B Sea Guardian একটি অত্যাধুনিক হাই-অল্টিটিউড লং-এন্ডিউরেন্স ড্রোন সিস্টেম। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চতায় উড়ে বিশাল সমুদ্র এলাকায় নজরদারি চালাতে পারে এই ড্রোন। ফলে ভারতীয় নৌবাহিনীর সমুদ্র এলাকার সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতা আরও বাড়বে।

এই ড্রোনে রয়েছে উন্নত সেন্সর, অত্যাধুনিক সিস্টেম এবং অ্যাডভান্সড পেলোড। ফলে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং রেকনেসাঁ বা অনুসন্ধানমূলক অভিযানে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এর ফলে সম্ভাব্য হুমকি, অবৈধ কার্যকলাপ এবং অস্বাভাবিক গতিবিধি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল লিজ মডেল। আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সরাসরি কেনার প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল হতে পারে। সেখানে লিজের মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে দ্রুত নতুন প্রযুক্তি হাতে পাওয়া যায়। ৩০ মাসের লিজের সময় ভারতীয় নৌবাহিনী এই সিস্টেমের পরিচালনাগত অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে। পাশাপাশি অপারেটরদের প্রশিক্ষণ এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই ধরনের ড্রোন ব্যবহারের প্রস্তুতিও নেওয়া সম্ভব হবে।

চুক্তি অনুযায়ী, ভারতীয় নৌবাহিনীকে দুটি সম্পূর্ণ MQ-9B Sea Guardian সিস্টেম দেওয়া হবে। উন্নত সেন্সর ও পেলোড-সহ এই ড্রোনগুলি সমুদ্রের উপর দীর্ঘ সময় ধরে টহল দিতে পারবে এবং রিয়েল-টাইম তথ্য সরবরাহ করতে সক্ষম হবে। এর ফলে সমুদ্রসীমার নিরাপত্তার পাশাপাশি চোরাচালান, অবৈধ মাছ ধরা এবং সম্ভাব্য শত্রুপক্ষের গতিবিধির উপর নজরদারি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

Advertisement

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক উপস্থিতির প্রেক্ষাপটেও এই চুক্তিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই অঞ্চলে ভারতের সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় দীর্ঘক্ষণ আকাশে থেকে নজরদারি চালাতে সক্ষম ড্রোনের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। গত কয়েক বছরে ভারত একাধিক আধুনিক সামরিক প্ল্যাটফর্ম যুক্ত করলেও High-Altitude Long-Endurance ড্রোনের ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল। MQ-9B Sea Guardian সেই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই চুক্তিকে শুধু দুটি ড্রোন লিজ নেওয়ার বিষয় হিসেবে দেখছে না প্রতিরক্ষা মহল। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই ধরনের সিস্টেম অধিগ্রহণের পথও তৈরি হতে পারে। ৩০ মাসের অপারেশনাল অভিজ্ঞতা এবং ড্রোনগুলির কার্যকারিতা পর্যালোচনার পর আরও বেশি সংখ্যক MQ-9B কেনা বা কো-প্রোডাকশনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হতে পারে। একইসঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে Make in India ও আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যেও এই উদ্যোগ সহায়ক হতে পারে।

তবে বিদেশি প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচের মতো কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। তা সত্ত্বেও দ্রুত সমুদ্র নজরদারি সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে লিজ চুক্তিকে বাস্তবসম্মত ও কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও General Atomics-এর এই চুক্তির ফলে ভারতীয় নৌবাহিনীর নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই ড্রোনগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

Read more!
Advertisement
Advertisement