Advertisement

'ভারতকে দোষ না দিয়ে জঙ্গি দমন করুন', করাচিতে সন্ত্রাসবাদী হামলা নিয়ে পাকিস্তানকে জবাব কেন্দ্রের

এই হামলার দায় স্বীকার করেছে জামাত-উল-আহরার। যা নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর একটি সহযোগী সংগঠন। অতীতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর একাধিক হামলার দায়ও এই সংগঠন নিয়েছে।

করাচিতে সন্ত্রাসবাদী হামলা করাচিতে সন্ত্রাসবাদী হামলা
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ,
  • 28 Jun 2026,
  • अपडेटेड 6:36 PM IST
  • শনিবার সন্ধ্যায় করাচির গুলিস্তান-ই-জওহর এলাকায় সিন্ধ রেঞ্জার্সের ভিট্টাই উইং সদর দফতরে জঙ্গিরা হামলা চালায়
  • পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলাকারীরা প্রথমে একটি গাড়ি দিয়ে মূল ফটক ভেঙে ভেতরে ঢোকে

করাচিতে সিন্ধ রেঞ্জার্সের ঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের অভিযোগ উড়িয়ে দিল ভারত। রবিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সন্ত্রাসবাদের জন্য অন্যের দিকে আঙুল তোলার বদলে পাকিস্তানকে নিজেদের ভূখণ্ডে সক্রিয় জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস করার পরামর্শ দিয়েছে দিল্লি।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভারত-বিরোধী অভিযোগ প্রসঙ্গে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, 'করাচির সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের বিরুদ্ধে যে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।' 

কড়া ভাষায় তিনি আরও বলেন, 'পাকিস্তানের উচিত অন্যের দিকে আঙুল না তুলে নিজেদের দিকে নজর দেওয়া। নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া। সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করার প্রবণতা থেকে সরে আসা।' 

শনিবার সন্ধ্যায় করাচির গুলিস্তান-ই-জওহর এলাকায় সিন্ধ রেঞ্জার্সের ভিট্টাই উইং সদর দফতরে জঙ্গিরা হামলা চালায়। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলাকারীরা প্রথমে একটি গাড়ি দিয়ে মূল ফটক ভেঙে ভেতরে ঢোকে এবং পরে গ্রেনেড ছুড়ে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ওই এলাকায় পৌঁছে যান সে দেশের বিভিন্ন বাহিনীর নিরাপত্তাকর্মীরা। এরপর প্রায় ৯০ মিনিট ধরে নিরাপত্তা বাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে তীব্র গুলির লড়াই চলে। পরে স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (SSU) এবং অ্যান্টি-টেররিস্ট ফোর্স অভিযানে যোগ দেয়।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, অভিযানে ছয় জঙ্গি নিহত হয়। জখম এক জঙ্গিকে জীবিত অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়েছে। হামলায় সিন্ধ রেঞ্জার্সের চার সদস্য নিহত হন।

এই হামলার দায় স্বীকার করেছে জামাত-উল-আহরার। যা নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর একটি সহযোগী সংগঠন। অতীতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর একাধিক হামলার দায়ও এই সংগঠন নিয়েছে।

২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে করাচি বিমানবন্দরের কাছে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে দুই চিনা ইঞ্জিনিয়র নিহত হওয়ার পর এটিই করাচিতে প্রথম বড় সন্ত্রাসবাদী হামলা। এছাড়া, ২০২৩ সালে করাচি পুলিশ অফিসে হামলার পর TTP-ঘনিষ্ঠ জঙ্গিদের সঙ্গে যুক্ত এটিই শহরের সবচেয়ে বড় হামলা বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী এবং তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়েছে। সিন্ধের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলি শাহ ঘটনাটির বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছেন এবং ঘটনাস্থলে জরুরি পরিষেবার দল মোতায়েন করা হয়েছে।

Read more!
Advertisement
Advertisement