Advertisement

India In UNSC : ভেটো ক্ষমতা ছাড়া রাষ্ট্রসংঘের নিপারত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ নেব না, স্পষ্ট জানাল ভারত

ভারতের বক্তব্য, নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কারের নামে ভেটো ক্ষমতাহীন স্থায়ী সদস্যদের জন্য আলাদা একটি শ্রেণি তৈরি করা হলে তা বৈষম্য দূর করার পরিবর্তে আরও বাড়িয়ে দেবে।

রাষ্ট্রসংঘে ভারতের অবস্থান রাষ্ট্রসংঘে ভারতের অবস্থান
Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 27 Oct 2026,
  • अपडेटेड 2:38 PM IST
  • ভারতের অবস্থান, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার হতে হবে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে
  • শুধু ভেটো ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করলেই চলবে না

রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (United Nations Security Council) স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে ভারত। কিন্তু ভেটো ক্ষমতা ছাড়া স্থায়ী সদস্যপদ কোনওভাবেই নেবে না ভারত। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ পর্বতনেনি জানিয়েছেন, ভেটো ক্ষমতা ছাড়া স্থায়ী সদস্যপদ আসলে ‘দ্বিতীয় শ্রেণির’ মর্যাদার সমান। নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে আলোচনায় ভারতের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

সোমবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে আন্তঃসরকারি আলোচনার পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভেটো ক্ষমতার প্রশ্নে বক্তব্য রাখেন হরিশ পর্বতনেনি। তিনি বলেন, যত দিন নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ক্ষমতার ব্যবস্থা থাকবে, তত দিন সংস্কারের পরে পরিষদে যুক্ত হওয়া সমস্ত স্থায়ী সদস্যের হাতেই এই ক্ষমতা থাকা উচিত। তাঁর কথায়, ন্যায্যতা ও সমতার স্বার্থেই সব স্থায়ী সদস্যের সমান অধিকার এবং দায়িত্ব থাকা প্রয়োজন।

ভেটো ছাড়া স্থায়ী সদস্যপদে আপত্তি কেন ভারতের?

ভারতের বক্তব্য, নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কারের নামে ভেটো ক্ষমতাহীন স্থায়ী সদস্যদের জন্য আলাদা একটি শ্রেণি তৈরি করা হলে তা বৈষম্য দূর করার পরিবর্তে আরও বাড়িয়ে দেবে। এতে বর্তমানে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের হাতে থাকা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতায় কোনও মৌলিক পরিবর্তন আসবে না।

হরিশ পর্বতনেনি বলেন, ভেটো ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সদস্যপদের একটি নতুন শ্রেণি তৈরি করা হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে কার্যত দ্বিতীয় শ্রেণির সদস্যের মর্যাদা দেওয়া হবে। স্থায়ী সদস্যদের নতুন শ্রেণিতে ভেটো ক্ষমতা থাকুক বা না থাকুক, এই ধরনের ব্যবস্থা সংস্কারের আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতের অবস্থান, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার হতে হবে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। শুধু ভেটো ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করলেই চলবে না। সদস্যপদের ধরন, আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব, পরিষদের সদস্যসংখ্যা এবং কাজের পদ্ধতি, সব বিষয়কেই একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

নিরাপত্তা পরিষদের ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ভারতের রাষ্ট্রদূত জানান, ১৯৬৫ সালে পরিষদের সম্প্রসারণের সময় অস্থায়ী সদস্যের সংখ্যা ছয় থেকে বাড়িয়ে ১০ করা হয়েছিল। কিন্তু স্থায়ী সদস্যের সংখ্যা পাঁচই রাখা হয়।

Advertisement

এর ফলে স্থায়ী ও নির্বাচিত সদস্যদের অনুপাত ৫:৬ থেকে বদলে ৫:১০ হয়ে যায়। ভারতের বক্তব্য, এই পরিবর্তনের ফলে স্থায়ী সদস্যদের তুলনায় নির্বাচিত সদস্যদের সংখ্যা বাড়লেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থায়ী সদস্যদের প্রভাব অক্ষুণ্ণ থাকে। তাই শুধুমাত্র অস্থায়ী সদস্যের সংখ্যা বাড়িয়ে নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোগত বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়।

পর্বতনেনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের জন্য স্পষ্ট সময়সীমা ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে লিখিত প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, ভেটো ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিয়েও আলোচনা করতে হবে পরিষদের সামগ্রিক সংস্কারের অংশ হিসেবে।

নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবি

১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে বর্তমানে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশ রয়েছে। আমেরিকা, রাশিয়া, চিন, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের হাতে রয়েছে ভেটো ক্ষমতা। গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে এই পাঁচ দেশের যে কোনও একটি নেতিবাচক ভোট দিলে প্রস্তাবটি আটকে যেতে পারে, এমনকি বাকি সদস্যদের অধিকাংশ সমর্থন করলেও।

ভারতের বক্তব্য, বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদ একবিংশ শতাব্দীর ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতাকে যথাযথভাবে তুলে ধরে না। বিশ্বের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এলেও পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের কাঠামো প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। তাই পরিষদকে আরও প্রতিনিধিত্বমূলক ও কার্যকর করে তুলতে সংস্কার জরুরি।

ভারত দীর্ঘদিন ধরেই স্থায়ী এবং অস্থায়ী, উভয় ধরনের সদস্যপদের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে। নয়াদিল্লির মতে, সংস্কারের প্রচেষ্টা যদি কেবল অস্থায়ী সদস্যের সংখ্যা বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোগত সমস্যার সমাধান করতে পারবে না।

২০২৮-২৯ সালের অস্থায়ী সদস্যপদেও নজর ভারতের

স্থায়ী সদস্যপদের দাবির পাশাপাশি ২০২৮-২৯ সালের মেয়াদের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদও পেতে চায় ভারত। এই আসনের জন্য নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৭ সালের জুনে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত একটি আসনকে কেন্দ্র করে ভারত ও তাজিকিস্তানের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা।

তবে ভারতের কাছে নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের প্রশ্নটি কেবল একটি আসন পাওয়ার বিষয় নয়। নয়াদিল্লির অবস্থান, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিষদের প্রতিনিধিত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো বদলানো প্রয়োজন। আর সেই সংস্কারে নতুন স্থায়ী সদস্যদেরও ভেটো ক্ষমতা দিতে হবে।

ভারতের এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট, নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদের দাবিতে কোনও আপস করতে রাজি নয় নয়াদিল্লি। ভেটো ক্ষমতা বজায় থাকলে নতুন স্থায়ী সদস্যদেরও সমান অধিকার দিতে হবে, এটাই ভারতের মূল বক্তব্য।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement