
India Sugar Price Rise: রেকর্ড আখ উৎপাদন। তবুও বাড়ছে চিনির দাম। প্রায় ৬০ টাকা কিলো। কিন্তু কেন? কাঁচামালের উৎপাদন বাড়লে তো দাম কমার কথা। উল্টো হওয়ার কারণ কী? আসলে আখ উৎপাদনের পরিমাণ আর সেই আখ থেকে কতটা চিনি তৈরি করা যাচ্ছে, দু'টি বিষয় এক নয়।
রেকর্ড আখ, চিনি উৎপাদন কম
কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের অগ্রিম হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ মরসুমে দেশে প্রায় ৫০০০.৬৩ লক্ষ টন আখ উৎপাদন হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আখের পরিমাণ বেশি হলেই যে চিনি উৎপাদনও সেই অনুপাতে বাড়বে, এমনটা নয়। এর কারণ বুঝতে হলে আপনাকে একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল টার্ম শিখতে হবে। 'রিকভারি রেট'। সেটা কী?
১০০ কেজি আখ থেকে যদি ১০ কেজি চিনি পাওয়া যায়, তা হলে রিকভারি রেট ১০ শতাংশ। এ বার দেশের গড় রিকভারি রেট প্রায় ৯.৭০ শতাংশ থেকে কমে ৮.৯১ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, আখ পিছু যতটা চিনি উৎপাদন হওয়ার কথা, তার তুলনায় কম হয়েছে।
এর পিছনে মূল কারণ রেড রট এবং টপ বোরার নামের রোগ। অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে জল জমে যাওয়াও আখের ক্ষতি হয়েছে। রেড রট ছত্রাকঘটিত রোগ। এতে আখের ভিতরের অংশ নষ্ট হয়ে যায়। অন্যদিকে, টপ বোরার একটি পোকা। তার আক্রমণে গাছের উপরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দু’ক্ষেত্রেই আখের গুণমান এবং চিনির পরিমাণ কমে যায়। অর্থাৎ বাইরে থেকে আপনি দেখছেন যে প্রচুর আখ। কিন্তু তার কোয়ালিটি খারাপ। ফলে খুব বেশি চিনিও তৈরি করা যাচ্ছে না।
আগেই বিপদের ইঙ্গিত ছিল
চিনির ঘাটতি যে তৈরি হতে পারে, তার কিছু ইঙ্গিত অবশ্য আগেই পাওয়া গিয়েছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব এগ্রিকালচারাল রিসার্চের সঙ্গে মাঠ সমীক্ষা করা হয়। তাতে দেখা যায়, যে যে এলাকায় বেশি আখ উৎপাদন হয়, সেখানেই রেড রট রোগ ছড়িয়েছে।
রফতানির অনুমতি দিয়েও পরে সিদ্ধান্ত বদল
২০২৫ সালের নভেম্বরে কেন্দ্রীয় সরকার মিলগুলিকে প্রায় ১৫ লক্ষ টন চিনি রফতানির অনুমতি দিয়েছিল। পরে সেই সীমা বাড়িয়ে ২০ লক্ষ টন করা হয়। তখন মনে করা হয়েছিল, দেশে প্রয়োজন মিটিয়েও যথেষ্ট চিনি থাকবে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রায় ৮ লক্ষ টন চিনি রফতানি হওয়ার পরই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। মে মাসে দেশের বাজারে জোগান ঠিক রাখতে রফতানিতে নিয়ন্ত্রণ আনা হয়।
অর্থাৎ শুধু রফতানির কারণেই বর্তমান চিনির সঙ্কট তৈরি হয়েছে, এমনটা বলা ঠিক হবে না।
ইথানলের জন্য কি চিনির উৎপাদন কমেছে?
অনেকেই ইথানলকে দোষারোপ করছেন। কারণ আখ থেকে চিনি উৎপাদনের বদলে ইথানলও তৈরি করা যায়। অনেকের প্রশ্ন, ইথানল তৈরিতে বেশি আখ ব্যবহারের কারণেই কি বাজারে চিনি কম?
কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, চিনির দাম বৃদ্ধির মূল কারণ ইথানল নয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইথানলের জন্য চিনির ব্যবহার ২০২২-২৩ সালে প্রায় ১২ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫-২৬ সালে প্রায় ৯ শতাংশ হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে ভার
পুজোর আগে আরও চাপ বাড়বে?
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০ জুলাই দেশে চিনির গড় রিটেল দাম ছিল কেজি প্রতি ৪৮.১৮ টাকা। ২০ অগাস্ট তা বেড়ে হয়েছে ৫৫.৭০ টাকা। বেশ কিছু বাজারে দাম আরও বেশি।
সামনেই গণেশ চতুর্থী, দুর্গাপুজো এবং দীপাবলি। উৎসবের মরসুমে মিষ্টি-সহ নানা খাবারে চিনির চাহিদা বাড়ে। ফলে জোগান ঠিক রাখাই এখন কেন্দ্রের বড় চ্যালেঞ্জ।