
আন্তর্জাতিক আঙিনায় বৃহৎ কৃষিশক্তি হিসেবে উঠে এসেছে ভারত। এমন প্রেক্ষাপটে ভারতীয় কৃষির ভবিষ্যৎ এবং কৃষকদের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে 'কিষান তক ভারত এগ্রিকালচার কনফারেন্স ২০২৬'-এর (Kisan Tak Bharat Agriculture Conference 2026) আয়োজন করতে চলেছে ইন্ডিয়া টুডে গোষ্ঠী। আগামী ১১ ও ১২ নভেম্বর নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হবে দু'দিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন। দেশের কৃষক, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, শিল্পমহলের প্রতিনিধি এবং কৃষি বিজ্ঞানীরা থাকবেন এক মঞ্চে। কৃষিক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ, উন্নয়ন এবং নতুন সম্ভাবনা নিয়ে হবে আলোচনা। এই সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
মাহিন্দ্রা ট্র্যাক্টর্সের সহযোগিতায় আয়োজিত এই সম্মেলনের মূল ভাবনা, 'স্মার্ট কিষান, বিকশিত ভারত'। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ২,০০০ কৃষক হাজির থাকবেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা এবং মতামত প্রাধান্য পাবে আলোচনায়। কৃষিক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। নির্ভুল কৃষিকাজ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নির্ভর সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম ফসলের নতুন ধরন- এমন নানা বিষয় উঠে আসবে আলোচনায়। লক্ষ্য, কৃষকদের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটানো।
আলোচনার পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে উদ্ভাবন এবং উদ্যোগের নানা সাফল্যের কাহিনিও তুলে ধরা হবে সম্মেলনে। বিশেষ গুরুত্ব পাবে সেই সমস্ত কৃষক এবং মহিলা শিল্পপতিদের অভিজ্ঞতা, যাঁরা প্রথাগত জ্ঞানের সঙ্গে আধুনিক পদ্ধতির মেলবন্ধন ঘটিয়ে নিজেদের জীবিকার উন্নতি করেছেন। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছেন গ্রামীণ ভারতে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ২০ জন কৃষক তাঁদের অসাধারণ লড়াই এবং সাফল্যের কাহিনি শোনাবেন সম্মেলনের মঞ্চে। নিজেদের ভাষায় মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাঁরা তুলে ধরবেন কৃষিকাজের অভিজ্ঞতা। তাঁদের এই জীবনসংগ্রামের কাহিনি দেশের অন্যান্য কৃষকদের অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে ভারতের কৃষকদের সাফল্য। তাঁদের হাত ধরেই যে ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে দেশ, সেই বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হবে। অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেবেন পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত রাহিবাই সোমা পোপেরে, ট্রিনিটি সাইউ, নেক রাম শর্মা, সুলতান সিং এবং সুন্দরম বর্মার মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।
গ্রামীণ ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও জায়গা করে নেবে এই সম্মেলনে। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত লোকসংগীতশিল্পী প্রহ্লাদ টিপানিয়া, কবি রুদ্র প্রতাপ রুদ্র এবং ভোজপুরি সংগীতশিল্পী চন্দন তিওয়ারি। উপস্থিত থাকবেন অভিনেতা, গায়ক তথা সাংসদ মনোজ তিওয়ারিও।
ভারতের কৃষিক্ষেত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে। দেশের মোট কর্মশক্তির প্রায় ৪৬ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে যুক্ত। কেন্দ্রীয় সরকারের 'ইকনমিক সার্ভে ২০২৫-২৬' অনুযায়ী, দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ রেকর্ড ৩৫৭.৭৩ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। এই বিপুল উৎপাদন কীভাবে কৃষকদের আয় বাড়াতে, জোগানের বাধা কমাতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানির সুযোগ আরও প্রসারিত করতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হবে সম্মেলনে। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণের মধ্যে দিয়ে তুলে ধরবেন দেশের কৃষকদের ক্ষমতায়ন, স্বনির্ভরতা এবং বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে ভবিষ্যতের রূপরেখা।
কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেন,'ইন্ডিয়া টুডে এবং কিষান তকের উদ্যোগে আয়োজিত ভারত এগ্রিকালচার কনফারেন্স দেশের অন্নদাতাদের সম্মিলিত সমৃদ্ধির জন্য এক নতুন দিশা দেখাবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর 'বিকশিত ভারত ২০৪৭'-এর স্বপ্নের মূল ভিত্তি হল স্মার্ট কিষান এবং কৃষির সুস্বাস্থ্য। স্মার্ট কৃষিকাজ মানে শুধু আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে মাটির স্বাস্থ্য বজায় রাখা, কৃষকদের খরচ কমানো এবং আয় বৃদ্ধি করাও। কৃষকদের আরও দক্ষ করে তুলতে ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপের কিষান তকের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। কারণ কৃষির স্বাস্থ্য ভাল থাকলে, কৃষকদের আয় বাড়লে এবং তাঁরা আরও দক্ষ হয়ে উঠলে তবেই ভারত প্রকৃত অর্থে বিকশিত ও স্বনির্ভর হয়ে উঠবে'।
এই উদ্যোগের কথা ঘোষণা করে ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এডিটর-ইন-চিফ অরুণ পুরী বলেন,'কৃষি ভারতের বৃহত্তম পেশা। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে এই ক্ষেত্রের উন্নতির উপর। কিষাণ তক ভারত এগ্রিকালচার কনফারেন্স ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভাষণ দেবেন। এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত সম্মানের। এই সম্মেলনের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং অভিজ্ঞতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান, নীতি নির্ধারণ ও শিল্পক্ষেত্রের সরাসরি সংযোগ ঘটাতে চাই আমরা। প্রযুক্তিনির্ভর সমৃদ্ধির স্থায়ী ভিত গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য'।
ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপের ভাইস চেয়ারপার্সন এবং এক্সিকিউটিভ এডিটর-ইন-চিফ কলি পুরী বলেন,'লড়াকু মানসিকতা এবং উদ্ভাবনের অনুপ্রেরণামূলক কাহিনিগুলির জন্ম হয় ভারতের গ্রামেই। সম্মেলনের সমাপ্তি পর্বে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এই মঞ্চের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের কণ্ঠস্বর জাতীয় ও আন্তর্জাতিকস্তরে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। আমাদের বিশ্বাস, সমৃদ্ধশালী স্মার্ট কিষানই বিকশিত ভারতের প্রাণশক্তি'।
মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা লিমিটেডের ফার্ম ইকুইপমেন্ট বিজনেসের প্রেসিডেন্ট তথা গ্রুপ এক্সিকিউটিভ বোর্ডের সদস্য এবং ফিকির কৃষি কমিটির চেয়ারম্যান ভিজয় নাকরা বলেন,'এক জন কৃষকের কাজ বিশ্বের অন্যতম কঠিন পেশা। প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করেও তাঁকে গোটা দেশের খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করতে হয়। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের হাত ধরে কৃষির উৎপাদনশীলতা এবং লাভের পরিমাণ বাড়লেও আমাদের আরও বড় দায়িত্ব রয়েছে। কৃষিকাজকে সহজ ও লাভজনক করে তোলার পাশাপাশি ভারতের কৃষিক্ষেত্রের উন্নতির নতুন পথ খুলে দিতে হবে। কৃষকদের লড়াই করার ক্ষমতাকে আর্থিক সমৃদ্ধিতে বদলে দেওয়ার এবং বিকশিত ভারতের ভিত আরও মজবুত করার এটাই উপযুক্ত সময়'।
এই সম্মেলনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক, আন্তর্জাতিক কূটনীতিক, দেশের বিশিষ্ট কৃষিবিজ্ঞানী, শিল্পমহলের প্রতিনিধি এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিজ্ঞানীরা অংশ নেবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন-
নীতি নির্ধারণ সংক্রান্ত আলোচনা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং কৃষকদের সরাসরি অভিজ্ঞতার কাহিনির মাধ্যমে দেশের কৃষির ভবিষ্যৎ নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার সঙ্গে কৃষকদের বাস্তব চাহিদার সংযোগ ঘটাবে কিষান তক ভারত এগ্রিকালচার কনফারেন্স ২০২৬।
এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সুযোগ শুধুমাত্র আমন্ত্রণের ভিত্তিতে। রেজিস্ট্রেশনের জন্য লগ ইন করুন- https://www.kisantak.in/smart-kisan-viksit-bharat/registration.