
শিবানী শর্মা/ ঋচিক মিশ্র: দেশের সামরিক খাতে আসছে বিরাট পরিবর্তন। আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ভারতের ডিফেন্স সেক্টরে একটি স্ট্র্যাটেজিক বদল আনার পরিকল্পনা করছে ভারতীয় সেনা। আর এই পরিবর্তন করা হচ্ছে পুরনো, বুড়ো হয়ে যাওয়া T-72 ট্যাঙ্ক ঘিরে। আদতে প্রায় ২,৪০০টি পুরোনো T-72 ট্যাঙ্ককে বাতিল বা স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করার পরিবর্তে, ভারতীয় সেনাবাহিনী সেগুলোকে অত্যাধুনিক চালকবিহীন মারণাস্ত্রে বদলে ফেলার পরিকল্পনা করেছে।
এই ট্যাঙ্কগুলো কয়েক দশক ধরে দেশের সীমান্তে সুরক্ষা দেওয়ার কাজ করেছে। কিন্তু বর্তমানে সেগুলোর বয়স হয়েছে ৪০ বছর। ফলে ২০৩০ সাল থেকে এই ট্যাঙ্কগুলোকে ধীরে ধীরে বাতিল করার পরিকল্পনা ছিল সেনার। কিন্তু এই নতুন রোবোটিক পদ্ধতি চালু করার ফলে ট্যাঙ্কগুলি আরও ১৫-২০ বছর চলবে। অর্থাৎ ২০৪৫ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত এই ট্যাঙ্কগুলি চলবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ট্যাঙ্কগুলি চালকবিহীন হওয়ায় সেগুলি ভারতীয় সেনার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। ভবিষ্যতে এই চালকবিহীন রোবোটিক ট্যাঙ্কগুলোকে এমন সব এলাকায় মোতায়েন করা হবে যেখানে সেনার জীবনহানির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
এই ট্যাঙ্কগুলো কোথায় ব্যবহার করা হবে?
আধুনিক যুদ্ধযানে ট্যাঙ্ক চালকেরা অত্যন্ত অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে থাকেন
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলা যুদ্ধ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে, আধুনিক ড্রোন, ট্যাঙ্ক-টার্গেটেড গাইডেড মিসাইল এবং উপর থেকে ছোড়া মিসাইলগুলি ট্যাঙ্কগুলোকে অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। আকাশ থেকে ট্যাঙ্ককে টার্গেট করা খুব সহজ হয়ে গিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্যাঙ্কের চালকদের জীবন সর্বদা ঝুঁকির মধ্যে থাকে। ভারত এই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের একটি নির্ভুল এবং দুর্দান্ত সমাধান আবিষ্কার করেছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনী এই পুরোনো ট্যাঙ্কগুলোতে একটি বিশেষ অটোমেটেড সেটআপ বসাবে, যার ফলে এগুলো রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে অথবা সম্পূর্ণ অটোমেটিক মোডে পরিচালিত হতে পারবে। এর মানে হল, ভেতরে কোনও সেনা না থাকলেও ট্যাঙ্কটি পূর্ণ শক্তি দিয়ে শত্রুকে আক্রমণ করবে।
খরচ এবং সুবিধা
প্রতিটি ট্যাঙ্ককে চালকবিহীন করতে আনুমানিক ২৫ কোটি টাকা খরচ হবে। তবে, পুরনো ট্যাঙ্ক বাতিল না করে সেগুলোকে নতুন করে ব্যবহার উপযোগী করে তোলা সেনাবাহিনীর জন্য দারুণ সুবিধাজনক। এই ট্যাঙ্কগুলোতে ইতিমধ্যেই একটি শক্তিশালী ১২৫ মিমি কামান রয়েছে। এখন এতে সেন্সর, ক্যামেরা এবং অটোমেটিক ব্যবস্থা যুক্ত করা হবে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদক্ষেপ আধুনিক যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর সক্ষমতা আরও জোরদার করবে। পাশাপাশি ড্রোন এবং স্বল্পমূল্যের ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী অস্ত্রের ক্রমবর্ধমান সহজলভ্যতার কারণে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সুবিধাজনক হিসেবে গণ্য হবে।