
দুর্গম এলাকায় দ্রুত অস্ত্র পৌঁছে দিতে আরও এক ধাপ এগোল ভারতীয় সেনা। চিনুক হেলিকপ্টারের সাহায্যে আল্ট্রা লাইট হাউইৎজার বা ULH ফাস্ট মোতায়েন করার মহড়া চালানো হল। পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অধীনে ব্রহ্মাস্ত্র কোর এই প্রশিক্ষণ চালিয়েছে। লক্ষ্য একটাই। প্রয়োজনের সময়ে দ্রুত যুদ্ধক্ষেত্রে আর্টিলারি ফায়ারপাওয়ার পৌঁছে দেওয়া। এই মহড়ায় চিনুক হেলিকপ্টারের সাহায্যে আল্ট্রা লাইট হাউইৎজার বহন করা হয়। হেলিকপ্টারের নীচে ঝুলিয়ে বা ‘আন্ডারস্লাং’ পদ্ধতিতে হাউইৎজারকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। কঠিন ভূখণ্ডে এই ধরনের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা-ও খতিয়ে দেখা হয়েছে।
রাস্তা না থাকলেও পৌঁছবে কামান
সীমান্তবর্তী পাহাড়ি বা দুর্গম এলাকায় ভারী অস্ত্র পৌঁছে দেওয়া বেশ কঠিন। অনেক জায়গায় রাস্তা নেই। কোথাও আবার রাস্তা থাকলেও তা দিয়ে বড় সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। ফলে অস্ত্র পৌঁছতে সময় লাগে।
এই সমস্যা অনেকটাই কমাতে পারে চিনুকের মতো হেভি-লিফট হেলিকপ্টার। আকাশপথে দ্রুত সামরিক সরঞ্জাম নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছে দেওয়া যায়। প্রয়োজন হলে সামনের দিকের অপারেশনাল এলাকাতেও অস্ত্র নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
ভারতীয় সেনার এই মহড়ার ফলে আল্ট্রা লাইট হাউইৎজারকে দ্রুত মোতায়েন করার ক্ষমতা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে এমন জায়গায়, যেখানে সাধারণ গাড়ি বা অন্য স্থলপথে কামান নিয়ে যাওয়া কঠিন, সেখানে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এই প্রশিক্ষণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আধুনিক যুদ্ধে শুধু শক্তিশালী অস্ত্র থাকা যথেষ্ট নয়। সেই অস্ত্র দ্রুত সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেওয়াও অত্যন্ত জরুরি। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কয়েক মিনিটের ব্যবধানও বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। তাই সেনার ‘এয়ার মোবিলিটি’ বা আকাশপথে দ্রুত অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরানোর ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেই সক্ষমতাই আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছে ভারতীয় সেনা। চিনুক হেলিকপ্টারের সাহায্যে ULH রেজিমেন্ট দ্রুত সরিয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় এলাকায় মোতায়েন করার অনুশীলন করা হয়েছে।
দুর্গম সীমান্তে সেনার গতি বাড়বে
পাহাড়ি এলাকা বা দুর্গম সীমান্তে সেনার দ্রুত পৌঁছনো সব সময় সহজ নয়। আবহাওয়া, রাস্তার অভাব এবং কঠিন ভূখণ্ড বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেখানে আকাশপথে অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা সেনার জন্য বড় সুবিধা তৈরি করতে পারে।
এই মহড়া দেখিয়ে দিল, প্রয়োজন হলে ভারতীয় সেনা কঠিন এলাকায় দ্রুত যুদ্ধাস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি রাখছে। এর ফলে সেনার গতি, পৌঁছনোর ক্ষমতা এবং অপারেশনাল প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।