
ভারত ও চিনের মধ্যে ফের একবার বর্ডার ইস্যু নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি, ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশের (ITBP) ডিরেক্টর জেনারেল শত্রুজিৎ কাপুর জানিয়েছেন, অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তে একাধিক জায়গায় ভারতীয় ও চিনা সেনার মধ্যে হাওয়া গরম হয়ে উঠেছে। গত কয়েক মাস ধরেই এই অঞ্চলে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে বলে দাবি করেছিলেন তিনি। এবার সেই প্রেক্ষিতে মুখ খুলেছে সরকারও। শুক্রবার ভারতের তরফে বলা হয়, চিনা বাহিনী তাঁদের নির্ধারিত টহল পদ্ধতি থেকে সরে এলে LAC -তে পরিস্থিতি বিঘ্নিত হতে পারে। নয়াদিল্লি জোর দিয়ে জানাচ্ছে, ভারত-চিন সম্পর্কের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।
বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল একটি সাংবাদিক সম্মেলেন জানিয়েছেন, "আমরা আগেও যেমন উল্লেখ করেছি, যখনই চিনা বাহিনী তাদের নির্ধারিত টহল পদ্ধতি থেকে সরে যায়, তখনই ভারত-চিন সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি সময়ে সময়ে অশান্ত হয়ে ওঠে।" তিনি বলেন, "LAC বরাবর অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান করতে এবং ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে উভয় পক্ষ কূটনৈতিক ও সামরিক প্রক্রিয়া চালাতে থাকবে।"
পাশাপাশি, জয়সওয়াল জানিয়েছেন, LAC বরাবর আরও ভালোভাবে বর্ডার ম্যানেজমেন্টের জন্য নিজেদের বোঝাপড়া বাড়াতে দুই দেশই আলোচনায় সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, "আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অপরিহার্য।"
ITBP-র ডিরেক্টর জেনারেল কী বলেছিলেন?
ITBP-র ডিরেক্টর জেনারেল শত্রুজিৎ কাপুর বলেছিলেন, 'গত কয়েক দিনে অরুণাচলের একাধিক জায়গায় মুখোমুখি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং তা এখনও চলছে।' তাঁর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত BRICS সম্মেলনের সময়ও ভারত ও চিনের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত ছিল।
সংঘাতের পরিস্থিতিতে ITBP-র শৌর্য কমান্ডোদের ভূমিকায় প্রশংসা করেছেন বাহিনীর ডিজি। তিনি বলেন, 'নতুন করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শৌর্য কমান্ডোরা এই সংঘাতের সময়ে অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছেন।' উল্লেখ্য, উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে যুদ্ধের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত এই কমান্ডোরা।