
INS Mahendragiri: আজকাল অনেকেই প্রশ্ন করেন, যুদ্ধজাহাজ, বিমান, মিসাইলে এত খরচ করে কী হবে? সত্যি বলতে, বর্তমান বিশ্বে যে কোনও দেশের কাছে অস্ত্র থাকাটা শুধুই যে যুদ্ধের জন্য, তা নয়। অস্ত্র কোনও দেশের শক্তি, নিজেকে রক্ষা করার ক্ষমতা ও দাপটের প্রতীক। তার জন্য সবসময় যে সরাসরি যুদ্ধ হতে হবে, তার কোনও মানে নেই। সেই থিওরিই ফলো করছে ভারত। তার অংশ হিসেবেই আরও একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ সংযোজন করল নেভি। নাম, INS মহেন্দ্রগিরি। বিশাখাপত্তনমে তৈরি এই সুবিশাল জাহাজ যে শুধু নৌবাহিনীর ক্ষমতা বাড়াবে তা-ই নয়। আগামিদিনে এটি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এদেশের সক্ষমতা তুলে ধরবে। পাশাপাশি ডিফেন্স ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে ভারত যে যথেষ্ট এগিয়ে, এমনকি অন্য দেশকেও অস্ত্র বিক্রি করার ক্ষমতা রাখে, তা ফের প্রতিষ্ঠিত করবে।
আগামী ১১ জুলাই বিশাখাপত্তনমে প্রজেক্ট ১৭এ-এর অধীনে এই 'স্টেলথ ফ্রিগেট' রণতরী ভারতীয় নৌবাহিনীতে কমিশনড হবে। মহেন্দ্রগিরি নাম কেন? পূর্বঘাট পর্বতমালার একটি সুবিশাল পর্বতশ্রেণীর নাম মহেন্দ্রগিরি। জাহাজটি অত্যন্ত লম্বা ও উঁচু হওয়ায় সেই পর্বতমালার নামেই নামকরণ করা হয়েছে।
'মেক ইন ইন্ডিয়া'
'মহেন্দ্রগিরি' সম্পূর্ণরূপে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি।
অত্যাধুনিক ফিচার্স
প্রজেক্ট ১৭এ ক্যাটাগরির ষষ্ঠ জাহাজ এটি। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত।
মহেন্দ্রগিরিকে শুধু যুদ্ধ করার জন্যই নয়, বরং বিভিন্ন ধরনের অভিযান চালনার জন্যও ডিজাইন করা হয়েছে। এটি একই সঙ্গে আকাশ, জল এবং জলের নিচের যুদ্ধে কাজে লাগানো যেতে পারে। এর পাশাপাশি টহলদারি ও নজরদারি চালানোর ক্ষমতা তো আছেই। আপদকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারকার্য চালানো বা ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই জাহাজ ব্যবহার করা যেতে পারে।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এহেন রণতরীর ডিপ্লয়মেন্ট বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম প্রধান ডিফেন্স পার্টনার হিসাবে নিজেকে তুলে ধরতে চাইছে। আর সেই লক্ষ্যে ভারতের অন্যতম ট্রাম্প কার্ড হতে পারে এই আইএনএস মহেন্দ্রগিরি।