
একবার ভাবুন তো, মহাকাশে গিয়েছে একটি স্যাটেলাইট। আর কয়েক বছর কাজ করার পর সেটির জ্বালানি শেষ হয়ে গেল। এর ফলে তো কাজই বন্ধ করে দেবে স্যাটেলাইট। যদিও এবার এই সমস্যার সমাধান করতে চলেছে ভারতের এক স্পেস স্টার্টআপ। মহাকাশেই যাতে স্যাটেলাইটে নতুন করে জ্বালানি ভরা যায়, সেই প্রযুক্তি তৈরি করছে তারা। মোদ্দা কথা, মহাকাশেই পেট্রোল পাম্প তৈরির চেষ্টা চলছে। এই প্রযুক্তি সফল হলেই কেল্লাফতে। এরপর মহাকাশেই স্যাটেলেটাইটে ভরা যাবে জ্বালানি। স্যাটেলাইটকে আবার কাজ করানো সম্ভব হতে পারে। যার ফলে নতুন স্যাটেলাইট তৈরির খরচও কমবে।
এই প্রযুক্তি টেস্ট করতে চলেছে ভারতের মহাকাশ স্টার্টআপ সংস্থা OrbitAID Aerospace। এই সংস্থা তৈরি করেছেন শক্তিকুমার আর।
প্রসঙ্গত, ২০২৬-এর নভেম্বর মাসে একটি ছোট স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এই স্যাটেলাইটটির ওজন মাত্র ৩০ কেজি। ভারতের Small Satellite Launch Vehicle বা SSLV রকেটের সাহায্যে এটি মহাকাশে পাঠানো হবে।
স্যাটেলাইটটির নাম AayulSAT-1A। এর মাধ্যমেই মহাকাশে স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা, জ্বালানি ভরা এবং স্যাটেলাইট পরীক্ষা করার প্রযুক্তি যাচাই করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে ইন্ডিয়া টুডে.ইন-এর কাছে বিশদে জানিয়েছেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও শক্তিকুমার। তিনি জানিয়েছেন, স্যাটেলাইটটি তৈরি হয়ে গিয়েছে। আগামী সপ্তাহে শেষ পর্যায়ের পরীক্ষা করা হবে। তারপর সেটিকে শ্রীহরিকোটায় পাঠানো হবে।
তবে এখনও কবে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে, তার নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। নভেম্বরের মাঝামাঝি এটি মহাকাশের পথে উড়ে যেতে পারে।
এই মিশনে দু'টি স্যাটেলাইটের মূল অংশ, দু'টি জ্বালানির ট্যাঙ্ক এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকবে। এর সাহায্যে মহাকাশে স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা হবে। সেই সঙ্গে জ্বালানি ভরার প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হবে।
এর আগে এই সংস্থার একটি মিশনে প্রযুক্তি পরীক্ষার প্ল্যানিং ছিল। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারিতে PSLV রকেটের সমস্যা হয়। যেই কারণে সেই পরীক্ষা করা যায়নি। তবে শক্তিকুমার জানিয়েছেন, নতুন মিশনটি আগের মিশনের বিকল্প নয়। এতে আরও কিছু নতুন যন্ত্র ও প্রযুক্তি যোগ করা হয়েছে।
কিছু নতুন প্রযুক্তির কথা এখনই প্রকাশ্যে আনতে চাইছে না সংস্থাটি। উৎক্ষেপণের পর সেগুলি সম্পর্কে জানানো হবে।
মহাকাশেই পেট্রোল পাম্প?
মহাকাশে জ্বালানি শেষ হয়ে গেলেই বিপদ। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণত সেটিকে বাতিল করতে হয়। তবে এই সমস্যার সমাধান করতে চাইছে সংস্থা। মহাকাশেই তৈরি করার চেষ্টা চলছে পেট্রোল পাম্প। এটি তৈরি হলে কোনও স্যাটেলাইটের জ্বালনি শেষ হলে একটি মহাকাশযান তার কাছে পৌঁছবে। তারপর দু'টি যানকে একসঙ্গে যুক্ত করা হবে। এরপর সেই স্যাটেলাইটে নতুন করে জ্বালানি ভরা হবে।
এই প্রযুক্তি সফল হলে স্যাটেলাইট আরও বেশিদিন কাজ করতে পারবে। বারবার নতুন স্যাটেলাইট তৈরির প্রয়োজনও কমতে পারে। ফলে খরচ বাঁচবে।
তবে এই সুবিধা পেতে হলে প্রযুক্তিটিকে সফলভাবে পরীক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি, নিয়মিত ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে হবে।
এই লক্ষ্যেই কাজ করছে OrbitAID Aerospace। নভেম্বরের মিশন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে এই পরিষেবা চালু করতে চায় সংস্থাটি।
শক্তিকুমার বলেন, 'AayulSAT-1A মহাকাশে জ্বালানি ভরার স্টেশন তৈরির পথে আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ। আগের মিশনে উৎক্ষেপণের সমস্যার কারণে প্রযুক্তি পরীক্ষা করা যায়নি। কিন্তু আমরা আমাদের লক্ষ্য থেকে সরে আসিনি।'
তিনি আরও জানান, এই মিশনে স্যাটেলাইটের ভিতরে সংযোগ তৈরি, জ্বালানি ভরা, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং তথ্য আদানপ্রদানের প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি মহাকাশে স্যাটেলাইট পরীক্ষা করার ব্যবস্থাও যাচাই করা হবে।
২০২৭-এ বড় পরিকল্পনা
নভেম্বরের মিশনের পর আরও বড় পরীক্ষার প্ল্যানিং রয়েছে OrbitAID Aerospace-এর। ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসের মধ্যে এই মিশনের লক্ষ্য নিয়েছে সংস্থাটি।
এই মিশনে দুটি স্যাটেলাইট থাকবে। একটিকে বলা হবে 'চেজার' বা অনুসরণকারী স্যাটেলাইট। অন্যটি হবে 'টার্গেট' বা লক্ষ্য স্যাটেলাইট।
প্রথম স্যাটেলাইটটি দ্বিতীয়টির কাছে পৌঁছবে। তারপর দুটি স্যাটেলাইটকে যুক্ত করার চেষ্টা করা হবে। এর মাধ্যমে জ্বালানি ভরা এবং মহাকাশে স্যাটেলাইটের মেরামত ও অন্যান্য পরিষেবার প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হবে।