
'আপনারাই তো আমাদের যাওয়ার অনুমতি দিলেন, আর এখন গুলি চালাচ্ছেন!' আতঙ্কিত আর্তনাদ ভারতীয় ট্যাঙ্কারের ক্যাপ্টেনের। শনিবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় ইরানের বাহিনীর বিরুদ্ধে ভারতীয় পতাকাবাহী দু'টি বাণিজ্যিক জাহাজের উপর গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সময়কার একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। তাতে ‘Sanmar Herald’ নামের একটি মোটর ট্যাঙ্কারের ক্যাপ্টেন বারবার ‘Sepah Navy’-কে ডেকে বলছেন, তাঁকে আগে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অথচ হঠাৎ করেই গুলি চালানো হচ্ছে। প্রাণভয়ে জাহাজ ঘোরানোর অনুমতি চাইছেন তিনি।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সময় একটি সুপারট্যাঙ্কারে প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল ইরাকি তেল বোঝাই ছিল। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর গানবোট থেকে গুলি চালানো হয় বলেই অভিযোগ। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, জাহাজগুলিকে মাঝপথ থেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হতে হয়।
ব্রিটেনের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) সংস্থাও জানিয়েছে, অন্তত দুটি IRGC গানবোট একটি ট্যাঙ্কারের দিকে গুলি চালায়। হরমুজ প্রণালীর কেশম ও লারাক দ্বীপের মাঝামাঝি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে। এমনকি একটি কন্টেনার জাহাজও আঘাত পেয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর সমুদ্রপথে চলাচলকারী একাধিক জাহাজে একটি সতর্কবার্তা ধরা পড়ে। সেখানে ঘোষণা করা হয়, হরমুজ প্রণালী “সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে” এবং কোনও দেশের কোনও জাহাজকে সেখানে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। এই ঘোষণা ঘিরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেল পরিবহণে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার পরেই কড়া পদক্ষেপ নেয় ভারত। নয়াদিল্লিতে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়। কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক জানায়, এই ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত নিরাপদে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছে। যদিও ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং ভারতের উদ্বেগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
সরকারি সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, ‘Sanmar Herald’-সহ সংশ্লিষ্ট জাহাজ ও নাবিকরা আপাতত নিরাপদে রয়েছেন। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
অন্যদিকে, ভারতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি ড. আবদুল মাজিদ হাকিম ইলাহি এই ঘটনায় গুরুত্ব কমিয়ে দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, ভারত-ইরান সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ় এবং এই নির্দিষ্ট ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তাঁর আশা, খুব দ্রুতই পরিস্থিতির সমাধান হবে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ। সেখানে এই ধরনের গুলিবর্ষণের ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।