Advertisement

Kudankulam Nuclear Plant: ভারতের বৃহত্তম পরমাণু কেন্দ্রের সব নথি ফাঁস? ডার্ক ওয়েবে Leaked ফেসিলিটি ব্লুপ্রিন্টও

নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ (NTI)-এর সিনিয়র ডিরেক্টর নিকোলাস রথের মতে, যদি এই নথিগুলি আসল হয়, তাহলে তা প্ল্যান্টের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। রয়টার্স জানিয়েছে, তারা ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত তারিখযুক্ত নথিগুলি পর্যালোচনা করেছে। তবে সেগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কুডানকুলাম পরমাণু বিদ্যুত্‍ কেন্দ্র - ছবি: উইকিপিডিয়াকুডানকুলাম পরমাণু বিদ্যুত্‍ কেন্দ্র - ছবি: উইকিপিডিয়া
Aajtak Bangla
  • কুডানকুলাম,
  • 15 Jul 2026,
  • अपडेटेड 4:43 PM IST
  • রিলায়েন্সের স্বীকারোক্তি
  • কতটা গুরুতর এই ঘটনা?
  • রাশিয়ার রিঅ্যাক্টর ডিজাইনের তথ্য নেই

ভারতের বৃহত্তম পরমাণু  প্ল্যান্টের বিপুল পরিমাণ গোপন নথি ফাঁস হয়ে গেল ডার্ক ওয়েবে। ওই পরমাণু কেন্দ্রের কী ফেসিলিটি, কী কী সাপ্লাই করা হয়, সব গোপন তথ্য সহ ব্লুপ্রিন্ট বিস্তারিত ফাঁস করেছে  Ransomware গ্রুপ।  প্রকাশিত নথির মধ্যে প্রকল্পের বিভিন্ন অংশের কথিত ব্লুপ্রিন্ট, সরবরাহকারীদের তথ্য, বৈঠকের নথি, পরিদর্শন রিপোর্ট, যন্ত্রপাতির মূল্যায়ন এবং বিমা সংক্রান্ত কাগজপত্র রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। গোষ্ঠীটির দাবি, এই তথ্যগুলি এসেছে অনিল আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপ থেকে।

তামিলনাড়ুর কুডানকুলামে অবস্থিত এই পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ভারতের সাতটি নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের মধ্যে সবচেয়ে বড়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পরমাণু শক্তি উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনায় এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রিলায়েন্সের স্বীকারোক্তি

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে অনিল আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপ জানিয়েছে, তৃতীয় পক্ষের ডেটা সেন্টার পরিষেবা প্রদানকারী Yotta-র হোস্ট করা একটি সার্ভারে আংশিক তথ্য ফাঁস হয়েছে। বিষয়টি সরকারকে জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেছে সংস্থা। তবে ঠিক কোন তথ্য ফাঁস হয়েছে, তা জানানো হয়নি।

কতটা গুরুতর এই ঘটনা?

নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ (NTI)-এর সিনিয়র ডিরেক্টর নিকোলাস রথের মতে, যদি এই নথিগুলি আসল হয়, তাহলে তা প্ল্যান্টের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। রয়টার্স জানিয়েছে, তারা ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত তারিখযুক্ত নথিগুলি পর্যালোচনা করেছে। তবে সেগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কী কী তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে?

World Leaks-এর ওয়েবসাইটে মোট ৮ লক্ষ ৫৮ হাজারেরও বেশি রিলায়েন্স সংক্রান্ত ফাইলের মধ্যে প্রায় ১৯ হাজার ফাইলকে সবচেয়ে সংবেদনশীল বলে মনে করা হচ্ছে। সেগুলির মধ্যে রয়েছে, ইউনিট ৩ ও ইউনিট ৪-এর ভেন্টিলেশন ও কুলিং সিস্টেমের কথিত ব্লুপ্রিন্ট, একটি কমন কন্ট্রোল রুম-এর সম্ভাব্য সম্পূর্ণ ফ্লোর লেআউট, অনুমোদিত সরবরাহকারীদের তালিকা, ভেন্ডর প্রস্তাব, যৌথ পরিদর্শনের নথি ও যন্ত্রপাতির ছবি ও বিমা সংক্রান্ত নথি। একটি নথিতে দাবি করা হয়েছে, ইউনিট ৩ বা ৪-এ সন্ত্রাসবাদী হামলা হলে ১১ কোটি ২০ লক্ষ মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিমা সুরক্ষা রয়েছে।

Advertisement

রাশিয়ার রিঅ্যাক্টর ডিজাইনের তথ্য নেই

প্রকাশিত নথিতে মূল নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরের নকশা নেই বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ রিঅ্যাক্টরের মূল প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা রোসাটম। তবে সহায়ক পরিকাঠামো সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ হওয়াও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের নথি ব্যবহার করে কোনও হামলাকারী প্রকল্পের সহায়ক ব্যবস্থা, সরবরাহকারী সংস্থা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে।
সূত্রের দাবি, ভারতের পরমাণু বিদ্যুৎ সংস্থা Nuclear Power Corporation of India (NPCIL) ইতিমধ্যেই রিলায়েন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। পাশাপাশি দেশের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা CERT-In ঘটনাটির তদন্ত করছে। যদিও NPCIL, CERT-In এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।

অন্যদিকে Yotta জানিয়েছে, ২৯ মে তারা রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের একটি সার্ভারে সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে সেটি বন্ধ করে দেয়। তাদের দাবি, সম্ভাব্য কার্যকলাপ ঠেকানো গিয়েছিল। তবে জুনের শেষে রিলায়েন্স জানায়, বাইরের হুমকি সৃষ্টিকারীরা তথ্য ফাঁসের দাবি করছে।

ইউনিট ৩ ও ৪ নির্মাণ করছে রিলায়েন্স

রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ২০১৮ সালে কুডানকুলাম প্রকল্পের ইউনিট ৩ ও ইউনিট ৪-এর পরিকাঠামো নির্মাণের চুক্তি পায়। বর্তমানে নির্মীয়মাণ এই দুই ইউনিট ২০২৭ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা। চালু হলে মোট ২,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। এটি প্রথম নয়। ২০১৯ সালে কুডানকুলাম প্ল্যান্টের প্রশাসনিক নেটওয়ার্কে উত্তর কোরিয়ার একটি হ্যাকার গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ম্যালওয়্যার ধরা পড়েছিল। সে সময় NPCIL জানিয়েছিল, দ্রুত তদন্ত করে দেখা যায় যে প্ল্যান্টের গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল সিস্টেমে কোনও প্রভাব পড়েনি।

Read more!
Advertisement
Advertisement