
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ নিয়ে বারেবারে সতর্ক করছিলেন বিশেষজ্ঞরা। তাবড় তাবড় অর্থনীতিবিদরা ক্রমাগত সতর্ক করে জানাচ্ছিলেন, এই সংঘাতের জেরে মুদ্রাস্ফীতি মাথাচারা দিয়ে উঠতে পারে। কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল তাই ঘটেছে। যুদ্ধের জেরে ভারতে তেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ১০ টাকা বেড়ে গিয়েছে। এমনকি LPG গ্যাস সিলিন্ডারও মহার্ঘ হয়েছে। এই সবকিছুই ঘটেছে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির জেরে।
তবে বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। সাম্প্রতিক সময়ে একটি শান্তি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে আমেরিকা ও ইরান। এই চুক্তির পর থেকেই কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই আশা করেছিলেন, এবার মুদ্রাস্ফীতি নীচে নামতে পারে। কিন্তু, তা হয়তো সম্ভব হবে না।
যুদ্ধের জেরে এমনিতেই মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে
অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবের কথা বলতে গেলে, দেশে খুচরা মুদ্রাস্ফীতির হার মে মাসে বেড়ে ৩.৯৩% হয়েছে, যা এপ্রিলে ছিল ৩.৪৮ শতাংশ। এতে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধি বড় ভূমিকা রেখেছে। একইসঙ্গে, মে মাসে পাইকারি মুদ্রাস্ফীতিও ৯.৬৮%-এ পৌঁছেছে। ক্রমবর্ধমান জ্বালানি খরচ এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করে রিজার্ভ ব্যাঙ্কও ২০২৭ অর্থবর্ষের জন্য মুদ্রাস্ফীতির হারের পূর্বাভাস ৪.৬% থেকে বাড়িয়ে ৫.১% করেছে।
তেলের দাম কমেছে, কিন্তু এখন নতুন চিন্তা!
কয়েক সপ্তাহ আগেও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে বিতর্ক অপরিশোধিত তেলকে কেন্দ্র করেই চলছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এখন মনে করছেন যে খলনায়ক অপরিশোধিত তেল নয়, বরং অন্য কেউ। নতুন হুমকির প্রভাব আরও দ্রুত দেখা দিতে পারে। ইনফোমেরিকস রেটিংস-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ডঃ মনোরঞ্জন শর্মা জানান, ভারতে আজকের মুদ্রাস্ফীতির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তেল নয়, বরং বর্ষা।
তিনি জানান, অপরিশোধিত তেলের চেয়ে দুর্বল বর্ষা এখন ভারতের জন্য মুদ্রাস্ফীতির ক্ষেত্রে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সহজ কারণ হল, ভারতের মুদ্রাস্ফীতির হিসাব-নিকাশে জ্বালানির দামের চেয়ে খাদ্যদ্রব্যের ভূমিকা অনেক বেশি। তিনি বলেন, ভারতের প্রায় অর্ধেক কৃষি জমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল; বৃষ্টির অভাবে শস্য, ডাল, শাকসবজি, ফল এবং তৈলবীজের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে, যার ফলে মুদ্রাস্ফীতি তীব্রভাবে বেড়ে যাবে এবং পারিবারিক বাজেট বিঘ্নিত হবে।
সহজ কথায়, অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে তা সবার আগে পরিবহন ব্যবস্থাকেই প্রভাবিত করে। তারপর নানা জিনিসের দাম বৃদ্ধি পায়, তাও ট্রান্সপোর্ট খরচ বৃদ্ধির কারণে। অন্যদিকে কম বৃষ্টিপাত হলে সব সবজি ও আনাজের দাম চড়চড় করে বেড়ে যাবে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কেনা খাদ্যদ্রব্যের দামকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। দুর্বল বর্ষার সবচেয়ে সরাসরি প্রভাব প্রায়শই সবজির বাজার এবং মুদি দোকানে দেখা যায়।