
ফের মাঝআকাশে বিমান হাইজ্যাক আতঙ্ক। এবার এয়ার ইন্ডিয়ার দিল্লিগামী বিমানে হাইজ্যাক আতঙ্ক ঘিরে ছড়াল জোর চাঞ্চল্য। ঘটনায় জয়পুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করল এয়ার ইন্ডিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইট AI-2030। আমেদাবাদ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে অ্য়ালার্ট পাওয়ার পরেই ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে দিল্লিগামী ফ্লাইটটিকে জয়পুরে ঘুরিয়ে আনা হয়।
রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, আমেদাবাদ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC) সকাল ৯টার দিকে ওই বিমানটি থেকে কয়েক সেকেন্ডের জন্য জরুরি সংকেত পায়। ফলে দ্রুত প্লেনটিকে জয়পুরে নামানো হয়।
জানা গিয়েছে, AI-2030-র পাইলট কয়েক সেকেন্ডের জন্য স্কোয়াক-৭৫০০ কোড সংকেত করেছিলেন। এই কোডটি হাইজ্য়াকের সংক্রান্ত ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। এই সংকেত দেখেই অ্যালার্ট হয়ে যায় সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলি। পাশাপাশি, সকাল ৯টা ১০ মিনিট নাগাদ বিমানটিকে দিল্লির ওয়ার রুম থেকে জয়পুরে ঘুরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরপর সকাল ৯টা ৩৫ মিনিট নাগাদ বিমানটি জয়পুর এয়ারপোর্টে নিরাপদে অবতরণ করে। ঠিক ১০ মিনিটের মধ্যে, ৯টা ৪৫ নাগাদ বিমানটিকে ভালোভাবে পরীক্ষার জন্য আইসোলেশন বে-তে নিয়ে যাওয়া হয়। উল্লেখ্য, বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতিতে সিকিউরিটি পরীক্ষার জন্য বিমানগুলোকে আইসোলেশন বে-তে রাখা হয়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তদন্তের পর বিমানটিতে সবকিছুই স্বাভাবিক দেখা গিয়েছে গেছে। তবে, কেন অ্যালার্ট জারি করা হল এবং স্কোয়াক-৭৫০০ কোড অ্যাক্টিভ করা হল? তা জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, ফ্লাইট হাইজ্যাক নিয়ে নতুন করে সারা বিশ্বেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কারণ, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে ১৭৪ জন যাত্রী এবং ৬ জন ক্রুকে নিয়ে রওনা দেয় ফ্লাইদুবাই (flydubai)-এর এফজেড১০৭৩ (FZ1073) বিমানটি। সেই প্লেনের পাইলট ছিলেন ভারতীয় স্মিত মচ্ছার (Smit Machchhar) এবং ওমানের নাগরিক ছিলেন কো-পাইলট। আকাশপথেই হঠাৎ ঘটে বিপত্তি। এফআইআর সূত্রে জানা গিয়েছে, ওমানের ওই কো-পাইলট হঠাৎই ককপিটের ভেতর স্মিত মচ্ছারের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হন। বিমান হাইজ্যাকের চেষ্টা করে সে। এই আকস্মিক হামলায় স্মিতের মাথা এবং হাতে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। রক্তাক্ত অবস্থাতেই তিনি ও বিমানকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। বিমানের মধ্যেই ওই কো-পাইলটকে ধরে ফেলে বন্দি করেন তিনি ও সহকর্মীরা। পরে ওমানের নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়।