Advertisement

ISRO-র ৯৫০ কোটির স্পেসপোর্ট চালাবে প্রাইভেট কোম্পানি, অনেক বড় ব্যবসা?

ISRO Spaceport: ৯৫০ কোটি টাকার ইসরোর নতুন স্পেসপোর্ট এবার বেসরকারি হাতে। কিন্তু রকেট উড়িয়ে প্রাইভেট কোম্পানির লাভ কী?

রকেট উড়িয়ে প্রাইভেট কোম্পানির লাভ কী?রকেট উড়িয়ে প্রাইভেট কোম্পানির লাভ কী?
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 11 Aug 2026,
  • अपडेटेड 6:33 PM IST
  • প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা খরচ করে নতুন স্পেসপোর্ট তৈরি করছে ইসরো।
  • মহাকাশ বন্দর চালানো ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এবার বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দিতে চলেছে কেন্দ্র।
  • কিন্তু প্রাইভেট কোম্পানির রকেট উড়িয়ে লাভ কী?

ISRO Spaceport: তামিলনাড়ুর কুলশেখরপট্টিনম। প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা খরচ করে নতুন স্পেসপোর্ট তৈরি করছে ইসরো। আর সেই মহাকাশ বন্দর চালানো ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এবার বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দিতে চলেছে কেন্দ্র। মূলত ছোট স্যাটেলাইট লঞ্চের জন্যই এই স্পেস পোর্ট তৈরি হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার আপাতত মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাদের পার্টিসিপেশন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ফলে এই স্পেসপোর্টের জন্য টেন্ডার ডাকা খুবই স্বাভাবিক। Indian National Space Promotion and Authorisation Centre বা IN-SPACe-এর মাধ্যমে যোগ্য ভারতীয় বেসরকারি সংস্থাগুলির কাছ থেকে Expression of Interest বা EOI চাওয়া হয়েছে। যে কোম্পানি সিলেক্টেড হবে, তারাই এই কুলশেখরপট্টিনমের Small-Satellite Launch Complex চালনা করবে।

কিন্তু প্রাইভেট কোম্পানির রকেট উড়িয়ে লাভ কী?
হয় তো ভাবছেন, প্রাইভেট সংস্থা রকেট, মহাকাশ, এসবে ঢুকে কী করবে? আসলে রকেট, স্যাটেলাইট পাঠানো এখন বড় ব্যবসা। শুধু গবেষণার জন্য নয়, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা, কৃষি, নেভিগেশন, দুর্যোগের আগাম অ্যালার্ট; সব ক্ষেত্রেই স্যাটেলাইটের প্রয়োজন হয়। ফলে ছোট স্যাটেলাইট দ্রুত এবং কম খরচে মহাকাশে পাঠানোর চাহিদা বাড়ছে।

উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, কোনও বেসরকারি সংস্থা একটি ছোট স্যাটেলাইট তৈরি করল। সেটি মহাকাশে পাঠানোর জন্য নিজের রকেট না থাকলে অন্য সংস্থার উৎক্ষেপণ পরিষেবা কিনতে হবে। এখানেই ব্যবসার সুযোগ। কোনও কোম্পানি রকেট তৈরি করবে, কোনও সংস্থা উৎক্ষেপণ কেন্দ্র পরিচালনা করবে, আবার অন্য সংস্থা স্যাটেলাইট তৈরি করবে।  

ভারতের Skyroot Aerospace-এর মতো সংস্থা বেসরকারি রকেট তৈরি করছে। আবার Agnikul Cosmos-ও ছোট রকেট নিয়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতে এমন সংস্থাগুলি কুলশেখরপট্টিনমের মতো স্পেসপোর্ট ব্যবহার করে দেশি-বিদেশি গ্রাহকের স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠাতে পারবে। অর্থাৎ, ISRO যেখানে মূলত দেশের মহাকাশ গবেষণা ও বড় মিশনে মন দিতে পারবে। বেসরকারি সংস্থাগুলি বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণের বাজার ধরতে পারবে।

বিশ্বে ইতিমধ্যেই এই ব্যবসার বড় উদাহরণ রয়েছে। যেমন ধরুন ইলন মাস্কের SpaceX। তাই ভারতের লক্ষ্য শুধু রকেট বানানো নয়; মহাকাশকে একটি বড় বাণিজ্যিক ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলা।

Advertisement

৯৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগ
আপাতত ভারতের প্রধান মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা। কিন্তু ছোট রকেট এবং ছোট স্যাটেলাইট লঞ্চের সংখ্যা বাড়ছে। সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখেই তামিলনাড়ুর তুতিকোরিন জেলার কুলশেখরপট্টিনমে নতুন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র তৈরি করছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO।

এই কেন্দ্রটি মূলত ছোট রকেটের জন্য ব্যবহার করা হবে। ISRO-র Small Satellite Launch Vehicle বা SSLV এখান থেকে উৎক্ষেপণ করা যাবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশের বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলিও এই কেন্দ্র ব্যবহার করতে পারবে।

অর্থাৎ, এক দিকে সরকারি মহাকাশ গবেষণা, অন্য দিকে বেসরকারি রকেট সংস্থার ব্যবসায়িক উৎক্ষেপণ; দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে কুলশেখরপট্টিনমের এই স্পেসপোর্ট।

Skyroot, Agnikul-ও পাবে সুবিধা
ভারতে গত কয়েক বছরে একাধিক বেসরকারি মহাকাশ সংস্থা রকেট তৈরির কাজ শুরু করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছে Skyroot Aerospace এবং Agnikul Cosmos। Skyroot-এর Vikram-1 এবং Agnikul-এর Agnibaan-এর মতো বেসরকারি রকেটও ভবিষ্যতে এই ধরনের উৎক্ষেপণ পরিকাঠামো ব্যবহার করতে পারবে।

ফলে নতুন স্পেসপোর্ট তৈরি হলে শুধু ISRO নয়, দেশের নতুন প্রজন্মের বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলিও লাভবান হবে।

কুলশেখরপট্টিনমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এর ভৌগোলিক অবস্থান।

শ্রীহরিকোটা থেকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে রকেট পাঠানোর সময় শ্রীলঙ্কাকে এড়িয়ে যেতে হয়। এর ফলে রকেটকে একটি বাঁকানো বা ‘dogleg’ গতিপথ নিতে হয়। এতে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হয়।

কুলশেখরপট্টিনম থেকে দক্ষিণ দিকে সরাসরি উৎক্ষেপণের সুযোগ থাকায় এই সমস্যা অনেকটাই কমতে পারে। এর ফলে জ্বালানি সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি রকেটের মাধ্যমে বহন করা উপগ্রহের ওজন বা payload capacity বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

ছোট স্যাটেলাইট লঞ্চের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ঠিক কী করবে বেসরকারি সংস্থা?
কেন্দ্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বরাত পাওয়া বেসরকারি সংস্থার হাতে স্পেসপোর্টের ব্যবহারের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে। ওই সংস্থাকে গোটা কমপ্লেক্স পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। লঞ্চ সার্ভিসও দিতে হবে। 

অর্থাৎ ভবিষ্যতে কোনও বেসরকারি রকেট সংস্থা ছোট উপগ্রহ মহাকাশে পাঠাতে চাইলে এই স্পেসপোর্ট ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে উৎক্ষেপণ করতে পারবে।

ISRO-ও পাশে থাকবে
স্পেসপোর্টের দায়িত্ব বেসরকারি সংস্থার হাতে গেলেও ISRO পুরোপুরি সরে যাচ্ছে না। নতুন অপারেটরকে প্রযুক্তিগত সাহায্য, প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় operational support দেবে ISRO।

যেকোনও সংস্থা আবেদন করতে পারবে না
তবে এই দায়িত্ব পাওয়ার জন্য ইচ্ছেমতো যে কোনও সংস্থা আবেদন করতে পারবে না। IN-SPACe-এর EOI-তে বেশ কিছু কঠিন যোগ্যতার শর্ত রাখা হয়েছে।

আবেদনকারী সংস্থাকে ভারতীয় মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণাধীন non-government entity হতে হবে। সংস্থাটির অন্তত সাত বছর ধরে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এ ছাড়াও বড় পরিকাঠামো প্রকল্পের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। গত সাত বছরে যোগ্য প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে অন্তত ৩৫০০ কোটি টাকার cumulative payment, revenue বা collection-এর অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

মিনিমাম ১,০০০ কোটি টাকার net worth চাই
শুধু ব্যবসার অভিজ্ঞতা থাকলেই হবে না। আর্থিক দিক থেকেও সংস্থাকে যথেষ্ট শক্তিশালী হতে হবে।

গত পাঁচ বছরের মধ্যে যে কোনও তিন বছরে আবেদনকারী সংস্থার গড় বার্ষিক turnover ২,০০০ কোটি টাকার বেশি হতে হবে। পাশাপাশি EOI জমা দেওয়ার সময় সংস্থার ন্যূনতম net worth ১,০০০ কোটি টাকা থাকা বাধ্যতামূলক।  

Read more!
Advertisement
Advertisement