
ভোপালে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জমিয়েত উলেমা-ই-হিন্দের সভাপতি মউলানা মাহমুদ মদনী সাম্প্রতিক বিচার বিভাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেন। তিনি বলেন, 'বাবরি মসজিদ এবং বিবাহবিচ্ছেদের মতো মামলার সিদ্ধান্তগুলি ইঙ্গিত দেয়, আদালত সরকারের চাপে কাজ করছে।' তিনি আরও বলেন, 'বেশ কয়েকটি আদালতের সিদ্ধান্ত সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক অধিকার স্পষ্টতই লঙ্ঘন করেছে।'
জমিয়েত উলেমা-ই-হিন্দের সভাপতি মউলানা মাহমুদ মদনীর বক্তব্য, '১৯৯১ সালের উপাসনালয় আইন থাকা সত্ত্বেও অন্যান্য মামলায় গৃহীত পদক্ষেপের একটি উদাহরণ। যতক্ষণ পর্যন্ত সংবিধান সেখানে সুরক্ষিত থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টকে সর্বোচ্চ বলা যাতে পার। অন্যথায় এটি আর এই নামের যোগ্য থাকবে না।'
কাদের মতামত প্রকাশের আর্জি মদনীর?
জমিয়েত উলেমা-ই-হিন্দের সভাপতি মউলানা মাহমুদ মদনী বলেন, 'এই মুহূর্তে দেশের ১০% মানুষ মুসলিমদের পক্ষে, ৩০% তাদের বিরুদ্ধে আর ৬০% নীরব।' এই ৬০% মানুষকে মতামত প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন। যদি এই গোষ্ঠীটিই মুসলিমদের বিরুদ্ধে হয়ে যায় তাহলে দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে বলে খবর।
'যেখানেই নিপীড়ন সেখানেই জিহাদ'
জিহাদ সম্পর্কে মউলানা মদনী বলেন, 'আজ সরকার এবং মিডিয়া একটি পবিত্র শব্দকে সম্পূর্ণ ভুল ভাবে বিশ্বের কাছে উপস্থাপন করছে। জিহাদকে লভ জিহাদ, থুতু জিহাদ এবং ল্যান্ড জিহাদের মতো শব্দের সঙ্গে যুক্ত করে অপমান করা হচ্ছে। যেখানে জিহাদ সর্বদা পবিত্র এবং অন্যদের কল্যাণের জন্য ব্যবহৃত হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।' মদনী বলেন, 'যেখানে নিপীড়ন থাকবে, সেখানেই জিহাদ থাকবে।' ভারত একটি গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার দেশ। এখানে জিহাদ নিয়ে কোনও বিতর্ক থাকা উচিত না বলে মনে করছেন জমিয়েতের এই সভাপতি। এখানকার মুসলিমরা সংবিধানের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেন বলে দাবি তাঁর। ফলত নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। যদি সরকার তা করতে ব্যর্থ হয় তাহলে তাদের দায়ী করা হবে বলে হুঙ্কার দেন মদানি।
'ভয়ে বন্দে মাতরম বলছে'
'বন্দে মাতরম' প্রসঙ্গে মউলানা মদনী বলেন, 'মৃত জাতি আত্মসমর্পণ করে। এটিই মৃত জাতির বৈশিষ্ট্য। সে কারণেই বন্দে মাতরম বলা শুরু করেছে এই মৃত জাতি।'