
সোমবার ঝাড়খণ্ডে বিধানসভা অভিযানে অংশ নিয়েছিল আন্দোলনরত ছাত্ররা। আর অভিযানে অংশ নেওয়া ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠি চার্জ করে বলে অভিযোগ। আর সেই পদক্ষেপের প্রতিবাদে মঙ্গলবার ঝাড়খণ্ডজুড়ে বন্ধের ডাক দিয়েছে বিজেপি। বনধের সমর্থনে রাঁচির বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি কর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। এর ফলে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, রাঁচির কানকে রোডের সিএমপিডিআই গেটের কাছে এবং কিশোরগঞ্জ, আরগোরা ও কানকে এলাকায় বিজেপি কর্মীরা রাস্তা অবরোধ করেছেন। নিউক্লিয়াস মল, হারমু চৌক এবং কিশোরগঞ্জ চৌকের কাছেও জ্বালানো হয় টায়ার। এর জেরে বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়।
ঝাড়খণ্ড বিজেপির ডাকা এই বন্ধ মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলার কথা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি আদিত্য সাহু পুলিশের পদক্ষেপকে পড়ুয়াদের উপর ‘অত্যাচার’ বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, ছাত্রদের সমস্যার সমাধান করার পরিবর্তে ঝাড়খণ্ডের জেএমএম নেতৃত্বাধীন সরকার বলপ্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে।
বন্ধের জেরে মঙ্গলবার রাঁচি এবং রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় অধিকাংশ স্কুল ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ। রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। তবে জরুরি পরিষেবাগুলিকে বন্ধের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
আন্দোলন কোনও রাজনৈতিক দলের নয়, দাবি ছাত্রদের
অন্যদিকে আন্দোলনরত ছাত্ররা দাবি করেছেন, তাঁদের আন্দোলনের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই। ছাত্রনেতা পীযূষ জানান, তাঁদের দাবির সমর্থনে যে কেউ পাশে দাঁড়ালে তাঁরা স্বাগত জানাবেন। কিন্তু কোনও রাজনৈতিক সংগঠনকে তাঁরা সমর্থন করছেন না।
মঙ্গলবার দুপুরে আন্দোলনরত ছাত্রদের কোর কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানেই আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করা হবে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁরা শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান।
JPSC-JSSC পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ
JPSC এবং JSSC পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই আন্দোলন চলছে। সোমবার হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী বিধানসভা অভিমুখে মিছিল করেন। একাধিক ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার পর পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ বাধে।
আন্দোলনকারীরা বিধানসভার তিনটি গেট পার হয়ে যায়। তবে চতুর্থ গেটের কাছে পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। এরপর ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ার পর কয়েকজন আন্দোলনকারীকে নাচতেও দেখা যায়।
এই সময় ৯ দিন ধরে অনশনরত দেবেন্দ্র নাথ মাহতোকে পরে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. ইরফান আনসারির দফতর জানিয়েছে, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি বিপদমুক্ত।
অন্যদিকে, রাঁচি পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে তাদের ১৪ জন কর্মী আহত হয়েছেন। আন্দোলনকারীরা বিধানসভার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় জগন্নাথপুর মন্দিরের কাছে পুলিশ জলকামানও ব্যবহার করে।
এদিকে ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. ইরফান আনসারি সোমবার গভীর রাতে কোনও প্রোটোকল বা নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াই রাঁচির সদর হাসপাতালে যান। সেখানে তিনি ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহতো এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অন্যান্য আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করেন।
ঝাড়খণ্ডে ছাত্রদের উপর পুলিশের পদক্ষেপের নিন্দা সিজেপি-এর
ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহতোর পাশে দাঁড়িয়েছেন।