
Kailash Mansarovar Yatra 2026: সোমবার দুপুরের তপ্ত রোদ গায়ে মেখে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পা রাখলেন একদল পুণ্যার্থী। তাঁরা সকলেই ২০২৬ সালের কৈলাশ মানসসরোবর যাত্রার প্রথম দলের যাত্রী। বাগডোগরা থেকে সিকিমের নাথুলা পাস হয়ে তিব্বতের দুর্গম পথে এগিয়ে চলাই তাঁদের লক্ষ্য। এই উদ্বোধনী দলে মোট ৪১ জন তীর্থযাত্রী রয়েছেন। দেশের ১২টি রাজ্য থেকে এসে তাঁরা শামিল হয়েছেন এই পবিত্র যাত্রায়। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন দুজন লিয়াজোঁ অফিসার এবং একজন চিকিৎসক। দলের সুবিধার্থে আরও চারজন রাঁধুনি ও সহায়ক কর্মী ইতিমধ্যেই গ্যাংটকে পৌঁছে গিয়েছেন। ফলে সব মিলিয়ে এই পুরো দলটিতে সদস্য সংখ্যা মোট ৪৮ জন।
এদিন বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামতেই পুণ্যার্থীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। সিকিম ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন বা এসটিডিসি-র বাগডোগরা শাখার ইনচার্জ অর্জুন মঙ্গর এবং বিশ্বাস গুরুং সহ অন্যান্য আধিকারিকরা উপস্থিত থেকে যাত্রীদের স্বাগত জানান। গ্যাংটক থেকে আসা লিয়াজোঁ অফিসার ফুনসোক তাশি ধোপথাপা এবং হরকামান লিম্বু পুণ্যার্থীদের পরবর্তী যাত্রার তদারকি করছেন।
যাত্রীদের গ্যাংটকে নিয়ে যাওয়ার জন্য এসটিডিসি সমস্ত রকম পরিবহণ ব্যবস্থার বন্দোবস্ত করেছে। গ্যাংটকে পৌঁছানোর পর এই পুণ্যার্থীদের বেশ কিছু প্রশাসনিক নিয়মকানুন সম্পন্ন করতে হবে। সেই সঙ্গে পাহাড়ের অতি উচ্চতার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য সেখানে কয়েক দিন থাকতে হবে তাঁদের। এর পরই শুরু হবে নাথুলা পাসের আসল চড়াই।
এই প্রথম ব্যাচে সবচেয়ে বেশি পুণ্যার্থী এসেছেন দিল্লি থেকে। দিল্লির বাসিন্দার সংখ্যা ১১ জন। এর পরেই তালিকায় রয়েছে মহারাষ্ট্র। সেখান থেকে এসেছেন ৬ জন। বাকি পুণ্যার্থীরা হরিয়ানা, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, পঞ্জাব, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশা, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং বিহারের বাসিন্দা। এই দীর্ঘ ও কঠিন তীর্থযাত্রার কথা মাথায় রেখে গ্যাংটকের সমস্ত সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতর আগে থেকেই কোমর বেঁধে নেমেছে।
রাস্তাঘাটের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পুণ্যার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিশেষ শিবির তৈরি করা হয়েছে। যে কোনও জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য আপৎকালীন চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং পাহাড়ের দুর্গম খাঁজেও যোগাযোগের নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক সচল রাখার প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করা হয়েছে। সিকিম সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রথম দলের সমস্ত পুণ্যার্থীর সুস্থ ও নিরাপদ যাত্রা কামনা করা হয়েছে।