Advertisement

Kidney Trafficking Racket: ৫০ হাজার টাকার বিবাদেই ফাঁস কোটি টাকার কিডনি পাচার চক্র, চাঞ্চল্যকর ঘটনা

৫০ হাজার টাকার একটি লেনদেন সংক্রান্ত বিবাদ থেকেই কানপুরে ফাঁস হয়ে গেল বহু কোটি টাকার এক চাঞ্চল্যকর কিডনি পাচার চক্র। তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্র শুধু একটি হাসপাতাল নয়, একাধিক হাসপাতাল, দালাল ও চিকিৎসাকর্মীদের জাল ছড়িয়ে আন্তঃরাজ্য স্তরে কাজ করত।

Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 31 Mar 2026,
  • अपडेटेड 6:28 PM IST
  • ৫০ হাজার টাকার একটি লেনদেন সংক্রান্ত বিবাদ থেকেই কানপুরে ফাঁস হয়ে গেল বহু কোটি টাকার এক চাঞ্চল্যকর কিডনি পাচার চক্র।
  • তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্র শুধু একটি হাসপাতাল নয়, একাধিক হাসপাতাল, দালাল ও চিকিৎসাকর্মীদের জাল ছড়িয়ে আন্তঃরাজ্য স্তরে কাজ করত।

৫০ হাজার টাকার একটি লেনদেন সংক্রান্ত বিবাদ থেকেই কানপুরে ফাঁস হয়ে গেল বহু কোটি টাকার এক চাঞ্চল্যকর কিডনি পাচার চক্র। তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্র শুধু একটি হাসপাতাল নয়, একাধিক হাসপাতাল, দালাল ও চিকিৎসাকর্মীদের জাল ছড়িয়ে আন্তঃরাজ্য স্তরে কাজ করত।

ঘটনার সূত্রপাত রাওয়াতপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালকে ঘিরে। অভিযোগ, নিয়ম ভেঙে সেখানে অবৈধ অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হচ্ছিল। এক দাতা প্রতিশ্রুত টাকা না পেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন। তিনি জানান, ১০ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও তাঁকে ৫০ হাজার টাকা কম দেওয়া হয় এবং বাকি অর্থ পেতেও দেরি করা হচ্ছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং ধীরে ধীরে সামনে আসে গোটা চক্রের চেহারা।

তদন্তে জানা গিয়েছে, কল্যাণপুরের বাসিন্দা শিবম আগরওয়াল এক আত্মীয়ের জন্য কিডনি প্রয়োজন বলে দেখিয়ে উত্তরাখণ্ডের এক যুবককে ১০ লক্ষ টাকার প্রলোভন দেন। আর্থিক সঙ্কটে থাকা ওই যুবক রাজি হয়ে যান। পরে রাওয়াতপুরের হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে তাঁর কিডনি বের করা হয়। অভিযোগ, সেই কিডনি মুজাফফরনগরের এক মহিলার পরিবারের কাছে প্রায় ৯০ লক্ষ টাকায় বিক্রি করা হয়। অথচ দাতা হাতে পান মাত্র সাড়ে ৯ লক্ষ টাকারও কম।

এই চক্রের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হল ‘তিন হাসপাতাল মডেল’। তদন্তকারীদের দাবি, একটি হাসপাতালে কিডনি সংগ্রহ, অন্যটিতে দাতার চিকিৎসা এবং তৃতীয়টিতে গ্রহীতার চিকিৎসা করা হত। এর ফলে কোনও একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে পুরো তথ্য থাকত না, ফলে ধরা পড়ার সম্ভাবনাও কমে যেত।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হল, এই চক্র মূলত আর্থিকভাবে দুর্বল যুবক-যুবতীদের টার্গেট করত। অনেক সময় আবেগের সুযোগ নিয়ে বা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের রাজি করানো হত। একাধিক ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদেরও প্রলুব্ধ করার অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশের মতে, এই চক্রে দালাল, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকদের যোগসাজশ ছিল। ইতিমধ্যেই শিবম আগরওয়াল এবং এক হাসপাতাল পরিচালক সুরজিৎ সিং আহুজাকে আটক করা হয়েছে। এছাড়াও এক চিকিৎসক দম্পতি-সহ আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

Advertisement

পুলিশ ও স্বাস্থ্য দফতরের যৌথ দল প্রিয়া হাসপাতাল, আহুজা হাসপাতাল এবং মেডলাইফ হাসপাতাল-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে। বিভিন্ন নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, এই চক্র একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে। দাতাদের এক রাজ্য থেকে এনে অন্য রাজ্যের গ্রহীতাদের সঙ্গে যুক্ত করা হত। ফলে এটি একটি বৃহৎ আন্তঃরাজ্য অঙ্গ পাচার চক্রের অংশ বলেই সন্দেহ করা হচ্ছে।

তদন্ত এখনও চলছে। পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত, আগামী দিনে আরও গ্রেফতার এবং নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে, যা এই চক্রের বিস্তৃতি সম্পর্কে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করবে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement