
Kerala CM Decider Meeting Delhi: কেরলে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরলেও মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে কে বসবেন, তা নিয়ে কংগ্রেস শিবিরের অন্দরে ধোঁয়াশা এখনও কাটল না। শনিবার দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দফতরে দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা ধরে চলল ম্যারাথন বৈঠক। মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতে আয়োজিত এই মেগা বৈঠকের নির্যাস একটাই, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন হাইকম্যান্ডই। এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক দীপা দাশমুন্সি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলের সমস্ত বিধায়ক এক লাইনের প্রস্তাব পাশ করে শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখেছেন। এখন খাড়গে ও রাহুল গান্ধী যাকে বেছে নেবেন, তিনিই হবেন ‘কেরলম’-এর পরবর্তী ভাগ্যবিধাতা।
কেরল বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (UDF) জোটের বাজিমাত হলেও মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার এখন তিনজন হেভিওয়েট নেতা। জোটের অন্দরে কংগ্রেসের নিজস্ব প্রার্থীর পাশাপাশি শরিক দলগুলিও নিজ নিজ নেতার জন্য সওয়াল করছে। বিশেষ করে কেরল কংগ্রেস এবং অন্যান্য শরিকদের চাপে সিদ্ধান্ত নেওয়া বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে হাইকম্যান্ডের জন্য। দীপা দাশমুন্সির কথায়, “মুখ্যমন্ত্রীর নাম খুব শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে।” তবে সেই ‘শীঘ্রই’ শব্দটির সময়সীমা নিয়ে খোলসা করেননি তিনি।
সময় কিন্তু বসে নেই। আগামী ২৩ মে কেরলে নতুন সরকার গঠনের শেষ সময়সীমা। অর্থাৎ ওই দিনের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত করে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সারতে হবে। অন্যথায় রাজ্যপাল সাংবিধানিক নিয়ম মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ করতে পারেন। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেরলের প্রবীণ নেতা রমেশ চেন্নিথালা, ভি.ডি. সতীশন এবং কেরল প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সানি জোসেফ। প্রত্যেকেই নিজেদের মতামত দিলেও শেষ পর্যন্ত গান্ধী পরিবারের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে দক্ষিণের এই রাজ্য।
বিপুল জয়ের আনন্দের মাঝেও মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘিরে এই দেরি দলীয় স্তরে সামান্য হলেও অস্বস্তি বাড়াচ্ছে। তিন গোষ্ঠীর তিন নেতার নাম নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, তখন খাড়গে ও রাহুল চাইছেন এমন কাউকে বেছে নিতে যিনি আগামী পাঁচ বছর জোটকে ঐক্যবদ্ধ রেখে শাসন চালাতে পারবেন। আপাতত ২৩ মে-র কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। দিল্লির ৩ ঘণ্টার মন্থন শেষে কার নাম নীলকণ্ঠ হয়ে উঠে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।