
কেরল সরকারের সাম্প্রতিক বাজেট ঘোষণায় ইলেকট্রিক গাড়ির উপর কর কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এসেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্দিষ্ট দামের ইভি কেনায় ক্রেতাদের সর্বোচ্চ ৬০ হাজার থেকে ৭৪ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হবে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন কর হারে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য ইলেকট্রিক গাড়ি কেনা আরও সহজ হয়ে উঠবে।
১৮ জুন ২০২৬-এ কেরল সরকার বাজেট পেশ করে ইলেকট্রিক যানবাহনের উপর রোড ট্যাক্স পুনর্গঠন করেছে। মূলত ইভি খাতে বিনিয়োগ ও ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি রাজ্য সরকারগুলিও এখন ইলেকট্রিক গাড়ির প্রসারে জোর দিচ্ছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে থাকা ইলেকট্রিক গাড়ির উপর রোড ট্যাক্স ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে এই সেগমেন্টে ক্রেতাদের প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হবে।
অন্যদিকে, ১৫ লক্ষ থেকে ২০ লক্ষ টাকার মধ্যে থাকা ইভি-র ক্ষেত্রে রোড ট্যাক্স ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৩ শতাংশ কর কমায় এই দামের গাড়িতে প্রায় ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ মিলবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সেগমেন্টেই ভারতের অধিকাংশ জনপ্রিয় ইভি যেমন টাটা, এমজি বা হুন্ডাইয়ের মডেলগুলি পড়ে।
২০ লক্ষ টাকার বেশি দামের ইলেকট্রিক গাড়িতেও বড় অঙ্কের সাশ্রয় মিলবে, যা সর্বোচ্চ ৭৪ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এটি মূলত এককালীন রেজিস্ট্রেশনের সময় পাওয়া কর ছাড়।
তবে ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকার সেগমেন্টে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। সেখানে আগের মতোই ৫ শতাংশ রোড ট্যাক্স বহাল থাকবে। অন্যদিকে, বিলাসবহুল গাড়ির ক্ষেত্রে কর বাড়িয়েছে কেরল সরকার।
৪০ লক্ষ টাকার বেশি দামের ইভি-তে রোড ট্যাক্স ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে ৫০ লক্ষ টাকার গাড়িতে প্রায় ২.৫ লক্ষ টাকা এবং ৭০ লক্ষ টাকার গাড়িতে প্রায় ৩.৫ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত খরচ বাড়বে বলে জানা যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে কেরলের এই নতুন ইভি কর কাঠামো একদিকে যেমন মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য সুবিধা তৈরি করেছে, তেমনই প্রিমিয়াম সেগমেন্টে বাড়িয়েছে খরচের চাপ। ইলেকট্রিক গাড়ির বাজারে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু করেছে অটো মহল।