
ভয়াবহ ধসের জেরে সিকিমের মূল ভূখণ্ড থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে লাচেন। বহু সংখ্যক পর্যটক সেখানে গিয়ে আটকে পড়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করতে এবার বিশেষ অভিযান শুরু করল ভারতীয় সেনার ত্রিশক্তি বাহিনী। এই অভিযানের নাম রাখা হয়েছে 'হিমসেতু'।
প্রবল তুষারপাত এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই ত্রিশক্তি বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের ভারতীয় জওয়ানরা উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত ১৩৫ জন পর্যটক এবং তাঁদের গাড়িও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নিরাপদে তাঁদের নামিয়ে নিয়ে আসার কাজ চলছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসা পরিষেবাও দেওয়া হচ্ছে উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের।
তবে এখনও ১ হাজার পর্যটক আটকে রয়েছেন ধস কবলিত লাচেনে। উত্তর সিকিমের ডংকিয়া-লা বরাবর রাস্তায় 'আইস কাটার' মেশিন নামিয়ে তুষারের পুরু চাদর সরিয়ে তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা করছে ত্রিশক্তি বাহিনীর জওয়ানরা। লাচেনে আটকে পড়া পর্যটকদের গ্যাংটকে নামিয়ে আনা হবে বলে খবর। মঙ্গন জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ডংকিয়া-লা, শিব মন্দির, জিরো পয়েন্ট, ইয়ুমথাং, লাচুং হয়ে ওই পর্যটকদের নামানো হচ্ছে। রবিবার ভোরে তারামচুতে চুংথাং-লাচেন সড়ক ভূমিধসে তলিয়ে লাচেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দুই দিনেরও বেশি সময় ধরে তারা লাচেনে আটকে। রাস্তা ধসে তলিয়ে যাওয়ায় বাঁশের অস্থায়ী সেতু তৈরি করে পর্যটকদের নামিয়ে আনার ব্যবস্থাও হয়েছে।
। উদ্ধার অভিযান তদারকিতে রয়েছেন মঙ্গনের জেলাশাসক অনন্ত জৈন, পুলিশ সুপার এলবি ছেত্রী, চুংথাংয়ের এসডিএম অরুণ ছেত্রী এবং চুংথাংয়ের এসডিপিও চন্দন ছেত্রী। লাচেন, ডংকিয়া-লা, লাচুং হয়ে বিকল্প রাস্তা বরফের পুরু আস্তরণে ঢেকে ছিল। তারামচুতে অস্থায়ী বাঁশের সেতু নির্মাণ করে উত্তর সিকিমের লাচেনে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয় তারপরই। মঙ্গনের জেলাশাসক মঙ্গলবার তারামচু সেতুর কাছে অস্থায়ী সেতুটি পরিদর্শন ও পরীক্ষা করেন। লাচেন থেকে ডংকিয়া-লা, শিব মন্দির হয়ে রাস্তাটি চলাচল যোগ্য হতে পর্যটকদের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।