
তৃণমূলের ২০ ‘বিদ্রোহী’ সাংসদকে নোটিস পাঠাল লোকসভার সচিবালয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সাংসদদের নোটিস পাঠানো হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে তাঁদের বক্তব্য জানাতে বলা হয়েছে। অভিষেকের দাবি ছিল, তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত ওই সাংসদদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ-বিরোধী আইন প্রযোজ্য। সেই প্রক্রিয়ায় দেরি হচ্ছে; এই অভিযোগেই সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হন তৃণমূলের লোকসভা দলনেতা।
সাত দিনের মধ্যে কী জানাতে হবে?
লোকসভা সচিবালয়ের ডিরেক্টরের তরফে পাঠানো নোটিসে ২০ সাংসদকে অভিষেকের আবেদনের প্রেক্ষিতে নিজেদের কী বক্তব্য, তা জানাতে বলা হয়েছে। তাঁদের উত্তর পাওয়ার পর তা লোকসভার স্পিকারের বিবেচনার জন্য পাঠানো হবে।
কেন সুপ্রিম কোর্টে অভিষেক?
তৃণমূলের দাবি, দলের প্রতীকে নির্বাচিত হওয়ার পর ওই ২০ সাংসদ অন্য রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যোগসূত্র তৈরি করেছেন। আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চেয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে সংবিধানের দশম তফসিল অর্থাৎ দলত্যাগ-বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
অভিষেক এর আগে লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার কাছে সংশ্লিষ্ট সাংসদদের বিরুদ্ধে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় দেরি হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে দ্রুত সিদ্ধান্তের দাবিতে আদালতে যান।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার উপস্থিতিতে মামলাটির শুনানি হয়। আদালত ২০ সাংসদকে নোটিস দিয়েছে। স্পিকার বা তাঁর দফতরকে আলাদা নোটিস দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানান সলিসিটর জেনারেল, কারণ তিনি তাঁদের হয়ে আদালতে উপস্থিত থাকবেন।
কারা ওই ২০ সাংসদের তালিকায় রয়েছেন?
অভিষেকের আবেদনে নাম রয়েছে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ চন্দ্র বর্মা বাসুনিয়া, পার্থ ভৌমিক, অরূপ চক্রবর্তী, দীপক অধিকারী দেব, সায়নী ঘোষ, বাপি হালদার, মহম্মদ আবু তাহের খান, কালীপদ সরেন খেরওয়াল, অসিত কুমার মাল, জুন মালিয়া, মিতালী বাগ, খলিলুর রহমান, মালা রায়, শর্মিলা সরকার এবং ইউসুফ পাঠানের।
এর পর কী?
এখন প্রথমে ২০ সাংসদের জবাবের দিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের। সাতদিনের মধ্যে তাঁদের বক্তব্য পাওয়ার পর তা স্পিকারের কাছে যাবে। এরপর দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতায় অযোগ্যতার আবেদন নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ করবেন লোকসভা স্পিকার।
অন্য দিকে, সুপ্রিম কোর্টও মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ফলে ২০ সাংসদের সাংসদপদ থাকবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই এখন আরও চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।