
বারান্দা থেকে গুটখার পিক ফেলতে গিয়ে ভয়ঙ্কর পরিণতি। ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের শক খেলেন এক বৃদ্ধ। তৎক্ষণাৎ তড়িদাহত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে মধ্যপ্রদেশের বিদিশা জেলায়। মৃতের নাম প্রভুলাল গুপ্ত (৬০)।
জানা গিয়েছে, পেশায় রাজমিস্ত্রি প্রভুলাল বিদিশা জেলার গায়ত্রী নগরে একটি তিন তলা বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। বাড়িটি তখনও নির্মীয়মাণ ছিল। এই বাড়ির ৩ তলার বারান্দা থেকে গুটখার পিক ফেলতে গিয়েছিলেন তিনি। অসাবধানবশত ১১ কেভি বিদ্যুতের লাইনের সংস্পর্শে চলে আসেন তিনি। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ৬০ বছর বয়সী প্রভুলালের।
বিদ্যুতের শক লাগার পর ওই ব্যক্তির দেহ বাড়ির কার্নিশে ঝুলতে থাকে। এই দৃশ্য দেখে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পৌঁছয় পুলিশও। এরপর ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মীয়মাণ বাড়িটির খুব কাছ দিয়েই গিয়েছে হাইটেনশন বিদ্যুতের লাইন। ফলে বাড়িটিতে বসবাসকারীদের জন্য গুরুতর বিপদের আশঙ্কা ছিল। এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুতের লাইন সরিয়ে নিয়ে যাওয়া অথবা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ দফতরের কাছে আবেদন জানানো হলেও কোনও লাভ হয়নি বলি অভিযোগ স্থানীয়দের একাংশের।
পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় মামলা রুজু করেছে। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে তদন্ত।
প্রভুলাল আদতে ছত্তরপুরের বাসিন্দা। বছর দশেক ধরে তিনি গায়ত্রী নগরে কাজের সূত্রে ভাড়া থাকতেন। থুতু বা লালায় জল এবং গলানো লবণ থাকার কারণে এর মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বারবার কোনও সক্রিয় বিদ্যুৎ পরিবাহীতে কেউ থুতু ফেললে বিদ্যুতের জন্য একটি পরিবাহী পথ তৈরি হয়।
উপযুক্ত পরিস্থিতিতে বৈদ্যুতিক তার থেকে বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ বা ইলেকট্রিক্যাল আর্ক তৈরি হতে পারে। বারান্দাটি যদি বিদ্যুৎ পরিবাহী তারের যথেষ্ট কাছাকাছি থাকে, তবে বিদ্যুৎ বাতাসের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে থাকতে পারে। আর এর ফলে শরীরে বিদ্যুৎ প্রবাহের কোনও পথ তৈরি হয়ে থাকলে শক লেগে মারাত্মক দগ্ধ হয়েই মৃত্যু ঘটেছে এই বৃদ্ধের। এমনটাই ব্যাখ্যা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।