
মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে মহানাটক নতুন ন। দল ভাঙানো, ঘোড়া কেনাবেচা, সে রাজ্যে চেনা ছবি। তবে এবার মহারাষ্ট্রে কি দেখা যেতে পারে 'বাংলা মডেল'। ফের ভাঙতে চলেছে ভেঙে যাওয়া শিবসেনার উদ্ধব শিবির? যা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে সেই 'অপারেশন টাইগার' আসলে কী?
দল ভাঙিয়ে শিবসেনা থেকে বেরিয়ে NDA-র হাত ধরেছিলেন একনাথ শিন্ডে। উদ্ধব ঠাকরের থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিলেন শিবসেনার নাম এবং প্রতীকও। এবার উদ্ধবের দল আরও একবার ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে। কারণ আচমকাই ফোন বন্ধ করে উধাও হয়েছেন তাঁর শিবিরের কয়েকজন সাংসদ। শোনা যাচ্ছে, বুধবার বা বৃহস্পতিবার দিল্লিতে উদ্ধব শিবিরের এই 'বিদ্রোহী' সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন একনাথ শিন্ডের পুত্র শ্রীকান্ত।
মহারাষ্ট্রের লেটেস্ট আপডেট
ইন্ডিয়া টুডে সূত্র মারফত জাতে পেরেছে, শিবসেনা সাংসদ শ্রীকান্ত শিন্ডে বর্তমানে মহাবলেশ্বরে রয়েছেন। বুধবার রাতে কিংবা বৃহস্পতিবার সকালে তিনি দিল্লিতে পৌঁছবেন। জানা যাচ্ছে, উদ্ধবপন্থী বিদ্রোহী সাংসদরা আগে স্পিকারের কাছে একটি চিঠি দিতে পারেন।
'অপারেশন টাইগার' নিয়ে কী বলছেন সঞ্জয় রাউত?
জল্পনার মাঝে সঞ্জয় রাউত বলেন, 'একটি চার্টার্ড বিমান নান্দের থেকে ২ জন সাংসদকে নিয়ে উড়ে গিয়েছে।' তিনি কার্যত হুঁশিয়ারির সুরেই জানান, যে সমস্ত নেতারা ঠাকরে নামের জোরে সম্মান পেয়েছেন, তাঁদের কর্মফল ভুগতে হবে। কারণ তাঁর দাবি, শিবির বদল করার জন্য বিদ্রোহী সাংসদদের ১৫ কোটি টাকা অফার করা হয়েছে
। ফলত জল্পনা আরও দৃঢ় হয়েছে, ৯ জনের মধ্যে উদ্ধবপন্থী ৬-৭ জন সাংসদ দলবদল করে একনাথ শিন্ডের শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন।
ভাঙনের জল্পনার মুখে দলের পদক্ষেপ
দল ভাঙতে চলেছে, এই জল্পনার মাঝে উদ্ধবপন্থী শিবসেনা শিবির সমস্ত সাংসদকে দিল্লিতে বাধ্যতামূলক উপস্থিত থাকার নির্দেশিকা জারি করেছে। কেউ অনুপস্থিত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২২ সালেও একই ভাবে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। যখন ৩৯ জন বিধায়ক দল ভেঙে রাতারাতি একনাথ শিন্ডের সঙ্গে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। বর্তমানে যদিও উদ্ধব শিবিরের দাবি, দলে ভাঙনের কোনও সম্ভাবনা নেই। তবে দলের অভ্যন্তরে মতবিরোধ রয়েছে।
কেন বাংলা মডেলের সঙ্গে তুলনা?
জানা গিয়েছে, বিদ্রোহী উদ্ধবপন্থী সাংসদরা একটি পৃথক ব্লক তৈরি করে স্পিকারকে চিঠি দেওয়ার কথা ভাবছেন। মনে করা হচ্ছে, ওই শিবির পরে শিন্দেসেনার সঙ্গে জুড়ে যেতে পারে। ঠিক যেমন ভাবে তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের ২০ জন ব্লক NCPI পার্টির সঙ্গে যুক্ত হয়ে NDA শিবিরে নাম লেখাতে চলেছে।
কারা দল ভেঙে যেতে পারেন?
সূত্রের খবর, উদ্ধব শিবিরের অন্তত ৬ জন সাংসদ শিন্দেসেনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন সঞ্জয় দিনা পাটিল, সঞ্জয় দেশমুখ, নাগেশ পাটিল, ওমরাজে নিম্বলকর, ভৌসাহেব ওয়াকচৌর এবং সঞ্জয় যাদব।
অন্য এক সূত্রের দাবি, উদ্ধব ঘনিষ্ঠ অরবিন্দ সবন্ত এবং অনিল দেশাই বুধবার দিল্লি পৌঁছোতে পারেন। দলের রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউত ইতিমধ্যেই দিল্লিতে রয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে, তাঁরা কি ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের সঙ্গে দেখা করে বোঝানোর চেষ্টা করবেন?