
ইন্ডি জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। সঙ্গে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বুধবার ইন্ডি জোটের সঙ্গে বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার রাজধানী থেকেই সাংবাদিক বৈঠক করলেন মমতা। সেখান থেকেই ৪,০০০ ইভিএম পুড়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার ইন্টি জোটের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গণ আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে একজোট থাকার বার্তাও দিয়েছিলেন তিনি। এদিনও সাংবাদিক বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের পর দক্ষিণ কলকাতায় আলিপুরের সরকারি ভবনে একধাক্কায় ৪,০০০টি ইভিএম (EVM)ছাই হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন মমতা।
সাংবাদি বৈঠকে মমতা বলেন, বিজেপি-কে জেতাতে, পরিকল্পনা মাফিকই SIR হয়েছে। নাম না করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে আজও 'ভ্যানিশ কুমার' বলে আক্রমণ করেন মমতা। সেই সঙ্গে কলকাতায় ৪০০০ EVM পুড়ে যাওয়ার বিষয়টিও উত্থাপন করেন সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সামনে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'মার্চ মাসে নির্বাচন, তার আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু করে। আমাদের সরকার ছিল। কিন্তু কার্যত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়। বদল করা হয় রাজ্যপালকে। তামিলনাড়ুতে বিতর্কিত কাজকর্মের জন্য পরিচিত রাজ্যপালকে তুলে আনা হয়। তাঁর আগের রাজ্যপাল যিনি ছিলেন, তিনি বোধহয় সব কথা শুনছিলেন না। তাই নির্বাচনের আগে, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বের করে দেওয়া হয়। থাকার জায়গাও দেয়নি। আমি ব্যবস্থা করে দিই।'এর পরই সরাসরি 'ভোটচুরি'র অভিযোগে চলে যান মমতা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমাদের ওখানে ৪০০০ EVM পুড়িয়ে দিয়েছে। কাউন্টিং মেশিনও। ন'তলা বিল্ডিং। আর কোথাও আগুন লাগল না, শুধু EVM যেখানে ছিল। জবরদস্তি বিজেপি-কে জেতানোর মেশিন পুড়িয়ে দিয়েছে। কেমন SIR হয়েছে ভাবুন। জেনেশুনে, বিজেপি-র পরিকল্পনা মাফিক কাজ হয়েছে। মাস্টারমাইন্ড বিজেপি। অভিষেক ডিসেম্বরেই প্রশ্ন তুলেছিল সীমা খান্না সফ্টওয়্যার, AI দিয়ে কাজ করাচ্ছে বলে। ওঁকে কী ভাবে নিয়োগ করা হয়, কী ভাবে ভোটার তালিকার কেন্দ্রীয়করণ হয়েছে, তা নিয়ে চিঠিও দেওয়া হয়। চিঠি দিয়েছিলেন WBCS অফিসাররাও যে EROদের পুরোপুরি ব্লক করে দিয়েছে।' পরিসংখ্যান তুলে ধরে মমতা দাবি করেন, প্রথমে ৫৮ লক্ষ ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে বাদ দেওয়া হয়। সেই নিয়ে আইনি লড়াই চলে। এর পর বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়োগ করা হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ১৫০০ মানুষের নামও ফেরানো যায়নি তালিকায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'নির্বাচন কমিশনকে এতদিন বিশ্বাস করতেন সকলে। অনেক কমিশনার দেখেছি, মিস্টার গিল, টিএন শেষন, মিস্টার কুরেশি, নবীন কুমার। কখনও এমন দেখিনি। আমার নিজের গণনাকেন্দ্রে সব দখল করে নেয়। আমি ১৫ হাজার ভোটে জিতছিলাম। আমাকে মারধরও করা হয়। সিআরপিএফ গেট আটকে দেয়, যাতে ভিতরে ঢুকতে না পারি। এজেন্টদের মেরে বের করে দেওয়া হয়। ব্লক করে দেওয়া হয় সিসিটিভি। কোথায় গেল সিসিটিভ ফুটেজ? ইভিএম হ্যাক করেছে। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছি, সীমা খান্না, জ্ঞানেশ কুমার নির্বাচন এবং গণনাপ্রক্রিয়া হাইজ্যাক করে নেয়।'
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে মমতার পাশে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়, দোলা সেন, বাবুল সুপ্রিয়রা। অভিষেক ৪০০০ ইভিএম পুড়িয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। নির্বাচন কমিশন বাংলার ভোটে বিজেপিকে ১৫০ আসন উপহার দিয়েছে বলেও বড় অভিযোগ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।