
সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকেকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। তেরঙা যাত্রার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। তার আগে আটক করা হয় তাঁকে। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে আটক করা হয়েছে তাঁকে। কনট প্লেসে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি রয়েছে। সেই কারণেই আটক অভিজিৎ। এই গোটা ঘটনায় অভিজিতের পাশে দাঁড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এক্সে মমতা লেখেন,'ভারতের জাতীয় পতাকা হাতে নেওয়ার অপরাধে আটক করা হয়েছে অভিজিৎ দীপকেকে। বিষয়টি একবার ভাবুন। স্বাধীন ভারতে আজ গণতান্ত্রিক অধিকার শান্তিপূর্ণভাবে প্রয়োগ করার জন্য আটক হতে হচ্ছে দেশের তরুণ প্রজন্মকে। এ তো কার্যত অঘোষিত জরুরি অবস্থারই নামান্তর। ভিন্নমতকে ভয় পায় যে সরকার, তারা এখন গোটা প্রজন্মকে ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। যে কণ্ঠস্বরকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, তাকে সহ্য করতে না পারাই ফ্যাসিবাদী শাসনের লক্ষণ'।
পাশে থাকার বার্তা দিয়ে মমতা লেখেন,'অভিজিৎ, আশুতোষ, সৌরভ, তোমরা ভারতের যুবসমাজের সাহস, বিবেক ও আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। কণ্ঠরোধ করে গোটা প্রজন্মকে স্তব্ধ করা যায় না। তোমাদের দিদি দৃঢ়ভাবে পাশে রয়েছে। ভয় দেখিয়ে, আটক করে বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে গণতন্ত্রের চেতনাকে দমিয়ে রাখা যাবে না'। তাঁর সংযোজন,'জেগে ওঠো ভারত! গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং ভিন্নমত প্রকাশের অধিকারের লড়াই চলবে'।
প্রসঙ্গত, কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে 'লহরা দো তিরঙ্গা' কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি। যদিও কনট প্লেসে ১৬৩ ধারা জারি। তেরঙ্গা মিছিলের জন্য নয়াদিল্লি পুরসভার অনুমতিও মেলেনি। মোতায়েন করা হয় র্যাফ এবং বাহিনী। দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তথা জনসংযোগ আধিকারিক রাজীব রঞ্জন জানিয়েছেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়মাবলি ফ্ল্যাগ কোডে উল্লেখ রয়েছে। প্রত্যেক নাগরিকেরই সেই নিয়ম মেনে চলা উচিত।
এর আগেও দিল্লি বিমানবন্দর থেকে অভিজিৎ দীপকেকে আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ। সেবার তাঁকে বন্ডে মুচলেকা দিতে হয়েছিল। আদালত ৫০ হাজার টাকার পিস বন্ডের বিনিময়ে তাঁকে মুক্তি দেয়। এক বছর কোনওরকম অশান্তি সৃষ্টি করবেন না, এই মর্মে তাঁর কাছ থেকে বন্ডে সই করানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তেরঙ্গা মিছিল চালিয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছে সিজেপি।