
'রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করলাম। ভোটচুরির কথা যখন বললাম, তখন তিনি অস্বীকার করেননি। বরং বললেন, প্রমাণ দিন। আমরা প্রমাণ জড়ো করেছি। সেটা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাব। গোটা দেশ জানে ভোটচুরি হচ্ছে'। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের বললেন রাহুল গান্ধী।
শুক্রবার রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করেন ইন্ডিয়া ব্লকের ১০ নেতার প্রতিনিধি দল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানোর জন্য রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ দাবি করেন তাঁরা। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় একাধিক অনিয়ম হয়েছে। নির্বাচনে ভোট চুরি করা হচ্ছে। এনিয়ে রাষ্ট্রপতির হাতে একটি স্মারকলিপিও তুলে দেন প্রতিনিধি দলের সদস্যেরা।
সাক্ষাতের পর লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী জানান,রাষ্ট্রপতির হাতে স্মারকলিপি তুলে দিয়েছেন তাঁরা। তাঁর দাবি, বিরোধীরা যখন রাষ্ট্রপতির সামনে ভোট চুরির প্রসঙ্গ তোলেন, তখন তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেননি বা এ নিয়ে কোনও প্রশ্নও তোলেননি। রাহুল বলেন,'রাষ্ট্রপতি ভোট চুরির প্রমাণ চেয়েছেন।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ভারতীয় গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। বিরোধীরা রাষ্ট্রপতির হাতে ভোট চুরি সংক্রান্ত প্রমাণ তুলে দেবেন বলেও জানান তিনি। রাহুলের দাবি, দেশের মানুষ জানেন, বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে। মোদী ও শাহ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছেন। জ্ঞানেশ কুমার ভোট চুরি করাচ্ছেন বলেও অভিযোগ তাঁর।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'বিরোধীদের বক্তব্য শুনেছেন রাষ্ট্রপতি। ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন'।
এ দিন বিকেলে সংসদের সেন্ট্রাল হলে জড়ো হন বিরোধী দলের সাংসদেরা। সেখান থেকে মিছিল করে বিজয় চক পর্যন্ত পৌঁছে ধরনায় বসেন। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ১০ জন বিরোধী সাংসদ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করতে রাষ্ট্রপতি ভবনে যান। রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে শুক্রবার রাত ৮টায় তাঁদের সাক্ষাতের সময় দেওয়া হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে ১০ জন সাংসদই রাষ্ট্রপতি ভবনে পৌঁছন। প্রতিনিধি দলে রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এম এ বেবি, ডি রাজা, সমাজবাদী পার্টির সাংসদ রাজীব রায়, সুপ্রিয়া সুলে, জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এবং আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা।
রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে যাওয়ার রাস্তা রাইসিনা হিলসে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাহুলের নেতৃত্বে ১০ জন সাংসদ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে গেলেও অন্য বিরোধী নেতা ও সাংসদরা বিজয় চকে ধরনায় বসেন।
দিল্লিতে সংসদের সেন্ট্রাল হলে জড়ো হওয়া ইন্ডিয়া জোটের সাংসদদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ১৯৪৭ সালের ১৪ অগাস্টের ঐতিহাসিক ভাষণের প্রসঙ্গ তোলেন। রাহুল বলেন,'জওহরলাল নেহরু কালজয়ী ভাষণ দিয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালের ১৪ অগাস্ট সংসদের সেন্ট্রাল হলে সেই ভাষণ দেওয়া হয়েছিল। তার কয়েকটি অংশ আমি তুলে ধরতে চাই। ভারত, সমগ্র এশিয়া এবং বিশ্বের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। প্রাচ্যে স্বাধীনতার নতুন এক নক্ষত্রের উদয় হচ্ছে, জেগে উঠেছে নতুন আশা এবং দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন সত্যি হচ্ছে। এই নক্ষত্র যেন কখনও অস্ত না যায় এবং সেই আশা যেন কখনও ভেঙে না পড়ে'।
ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে নির্বাচনের ফল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাহুল। তিনি বলেন,'গত কয়েক বছরে বিশেষ করে গুজরাত, হরিয়ানা এবং মহারাষ্ট্রে যে ধরনের নির্বাচনী ফল দেখা গিয়েছে, তা দেখে এখনও তাঁর বিশ্বাস হয় না, এমনটা কীভাবে সম্ভব হল। দেশের মানুষের অধিকার রক্ষা করা সকলের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাহুলের কথায়, যখন তাঁর হাতে প্রমাণ আসে, তখনই বিষয়টির গুরুত্ব তিনি বুঝতে পারেন।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকেও নিশানা করেন রাহুল। তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সরকারকেও বরখাস্ত করতে হবে। রাহুলের প্রশ্ন, জ্ঞানেশ কুমার নিজেকে কী মনে করেন? জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করাই তাঁর কাজ। বিরোধী সাংসদদের সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমারকে দেখা করতেই হবে।