
২০২৬ এর বিধানভায় নির্বাচনের প্রচারে মালদা ও মুর্শিদাবাদে গিয়ে কংগ্রেসকে বিজেপির দালাল বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছিলেন, 'বিজেপির শাগরেদ, দুই দালাল রয়েছে বাংলায়, কংগ্রেস ও সিপিএম। এই দুই দালালকে ক্ষমা করবেন না। সারা বছর কংগ্রেস ঘুমোবে আর ভোটের সময়ে টাকা দিয়ে ভোট কিনবে। আমার এই অভিজ্ঞতা আছে। ২০১১ থেকে দেখছি। ২০১৬–তেও দেখেছি। যদি আপনারা মনে করেন, ভোট কাটাকাটি করবেন, মনে রাখবেন, আগামী দিনে আশ্রয় থাকবে না।' এই মন্তব্যের পর কেটেছে প্রায় ২ মাস। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। নিজের দলের বিধায়কদের কাছেই কোণঠাসা মমতা। রাজনীতিতে টিকে থাকা তাঁর কাছে এখন অস্তিস্ত্বের লড়াই। এই পরিস্থিতিতে আজ সোমবার ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হল দিল্লিতে।
যে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই তাদেরই নেত্রী সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে এদিন হাসিমুখে দেখা যায় মমতাকে। পাশে তো বসেনই। এমনকী তাঁকে জড়িয়েও ধরেন। দেখেশুনে অনেকে বলছেন, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু হয় না। মমতার মতো রাহুল গান্ধীও পশ্চিমবঙ্গে ভোটপ্রচারে এসে তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছিলেন। অথচ আজ তাঁদেরই দেখা গেল এক মঞ্চে।
সোমবার দুপুর ১২টা নাগাদ দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে এই বৈঠক শুরু হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে সেই বৈঠকে হাজির মমতা ও অভিষেক। উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, ওমর আবদুল্লা, মেহবুবা মুফতি।
মোট ২৩ দল এই বৈঠকে অংশ নেয়। সেগুলি হল- কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস, রাষ্ট্রীয় জনতা দল, ন্যাশনাল কনফারেন্স, পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা, শিবসেনা (ইউবিটি), ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (শরদ পাওয়ার), সিপিএম, সিপিআই, সিপিআই (এমএল), আরএসপি, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ, ভিসিকে, এমডিএমকে, কেরল কংগ্রেস, কেরল কংগ্রেস (এম), আরএলপি, ভারত আদিবাসী পার্টি, লোক দল, ফরওয়ার্ড ব্লক, শেতকারি কামগার পক্ষ, কপিল সিব্বল (স্বতন্ত্র সাংসদ)।
প্রসঙ্গত, কালীঘাটে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের অনুষ্ঠান থেকে বিজেপি বিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে জোট বাঁধার জন্য আহ্বান জানান মমতা। তারপর থেকেই এই বৈঠক নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। এই বৈঠকে অতি বামদলগুলিকেও অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন মমতা।
ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক দল ছিল ডিএমকে। তবে বিধানসভা ভোটে স্ট্যালিনদের ভরাডুবির পর কংগ্রেস জোট ছেড়েছে। তারা হাত ধরেছে বিজয়ের সঙ্গে। ফলে আজকের এই বৈঠক বয়কট করেছে ডিএমকে।