
দেশের পাঁচটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচনের পর ফের একবার সক্রিয় ইন্ডিয়া জোট। আগামী ৮ জুন, সোমবার আবারও বিরোধী শিবিরকে একসঙ্গে নিয়ে বৈঠক করার ডাক দিল কংগ্রেস। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে যোগ দিতে চলেছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। সঙ্গে থাকবেন অভিষেকও। পাশাপাশি সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।
এই বৈঠক কেন গুরুত্বপূর্ণ?
জানা গিয়েছে, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিরোধী ঐক্যকে শক্তিশালী করতে ও বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে মোকাবিলা করতেই এই বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে মূল নজর রয়েছে TMC ও DMK-র দিকে। কারণ এই দুই দলই সাম্প্রতিক নির্বাচনে ক্ষমতা হারিয়েছে।
কোন কোন স্ট্র্যাটেজি নিয়ে আলোচনা হতে পারে?
কংগ্রেসের অন্দরের খবর, ৮ জুন হতে চলা এই বৈঠকে বিজেপি শিবিরকে কোণঠাসা করতে একাধিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করা হবে। পেট্রোল, ডিজেলের দাম বৃদ্ধি সহ, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র লিক-এর মতো ইস্যু নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।
বৈঠকে কারা উপস্থিত থাকতে পারেন?
মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় ও অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায় ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে প্রায় ১৫টি বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছেন শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে, সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে।
ঘোরতর সঙ্কটে পড়েছে মমতার তৃণমূল
অন্যদিকে, INDIA জোটের ডাকা এই বৈঠকের দিনকয়েক আগে ঘোরতর সঙ্কটে পড়েছে মমতার তৃণমূল। দল ভাঙার জল্পনা এখন স্পষ্ট। দাবি করা হচ্ছে বুধবার, ৫০ জনের বেশি বিধায়কের সই নিয়ে বিধানসভায় হাজির হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায়। ফলে তৃণমূল ভেঙে যাওয়ার দৃঢ় সম্ভাবনা রয়েছে। এমন অবস্থায় কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে মমতা-অভিষেকের এই বৈঠকে যোগদান।
তবে কংগ্রেস DMK-র সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে TVK-তে যোগ দেওয়ায় ডিএমকে-র এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন TVK-কে বৈঠকে আনার চেষ্টা চলছে। এদিকে, আম আদমি পার্টিও এই বৈঠকে যোগ নাও দিতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
এর আগে ২০২৫-এ কূটনৈতিক নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছিল
এর আগে ৭ আগস্ট, ২০২৫-এ রাহুল গান্ধী নয়াদিল্লিতে নিজের বাসভবনে বিরোধী নেতাদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন। ২৫টিরও বেশি বিরোধী দলের প্রায় ৫০ জন নেতা সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, যেখানে প্রধানত বিহারে ভোটার তালিকার SIR এবং নির্বাচনে কারচুপির মতো অভিযোগ আনা হয়েছিল।