
মণিপুরের উপত্যকার জেলাগুলিতে স্তব্ধতা। নাগরিক সমাজের ডাকা পাঁচ দিনের সর্বাত্মক বনধে কার্যত থমকে গেল স্বাভাবিক জনজীবন। রবিবার, ১৯ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে মহিলাদের এক গোষ্ঠী। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও এই ঘটনার প্রতিবাদে জয়েন্ট অ্য়াকশন কমিটি গড়ে তুলেছে। চলতি মাসের শুরুতে এক বোমা বিস্ফোরণে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই উত্তাল উত্তর-পূর্বের ওই রাজ্য।
গত ৭ এপ্রিল ত্রোণগালোবি গ্রামে এক বোমা বিস্ফোরণে পাঁচ বছরের নাবালক এবং পাঁচ মাসের এক শিশু কন্যার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ দানা বাঁধে। প্রতিবাদকারীদের দাবি, অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করতে হবে এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিহত শিশুদের পরিবারকে ন্যায়বিচার দিতে হবে।
বনধের প্রথম দিনেই সর্বাত্মক প্রভাব জনজীবনে। বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস এবং গণপরিবহণ পরিষেবা অধিকাংশ এলাকায় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল। যদিও কিছু জায়গায় জরুরি পরিষেবা সীমিত আকারে চালু রাখা হয়। তবে এর জেরে সাধারণ মানুষের অসুবিধে বেড়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, এই বনধ আগামী ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। তাঁদের দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও বৃহত্তর হবে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনমনে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন সরকারের কাছে দ্রুত এবং দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করা যায় এবং দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।