
পঞ্জাবের ফাগওয়ারায় লভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি (LPU)-তে এক বহিরাগত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিংসাত্মক বিক্ষোভ শুরু হয়। তাই সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ দিনের জন্য ক্লাস স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মিড-টার্ম পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।
সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে পড়ুয়াদের শান্ত থাকতে ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ক্লাস বন্ধ থাকার সময় অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে পড়ুয়ারা নিজেদের বাড়িতেও যেতে পারবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।
যাঁরা ক্যাম্পাসে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে, তাঁদের হস্টেলের ভিতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এমনকী অপ্রয়োজনে চলাফেরা না করার এবং কোনও ধরনের অশান্তি বা বিক্ষোভে না জড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
মিড-টার্ম পরীক্ষা স্থগিত
পড়ুয়াদের দেওয়া নোটিসে LPU জানিয়েছে, সমস্ত পড়ুয়ার নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই ক্লাস স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মিড-টার্ম পরীক্ষাও স্থগিত থাকবে।
পুলিশের সঙ্গে পড়ুয়াদের সংঘর্ষ
রবিবার রাত ১টা নাগাদ গার্লস হস্টেল-৩ -এর কাছে বিক্ষোভ শুরু হয়। পড়ুয়াদের অভিযোগ, তিন দিন আগে এক প্লাম্বার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে। তাঁদের আরও অভিযোগ, হস্টেলের ওয়ার্ডেনকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি কোনও পদক্ষেপ করেননি।
এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে বড়সড় বিক্ষোভ শুরু হয়। সকাল ৮টা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে NH-44 অবরোধ করে পড়ুয়ারা।
সন্ধ্যার দিকে পুলিশ রাস্তা অবরোধমুক্ত করার চেষ্টা করে। সেই সময় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আধিকারিকদের দাবি, বিক্ষোভকারীরা পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে জলের বোতল ছোড়েন। এরপর পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জ করে।
এরপর বিক্ষোভকারীরা ক্যাম্পাসের দিকে চলে যায়। অভিযোগ, তখনই পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। পুলিশের দাবি, দু’টি পুলিশ গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আরও চার থেকে পাঁচটি পুলিশ গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মীও আহত হন।
কাপুরথলা, জলন্ধর রুরাল এবং হোশিয়ারপুর থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পরে ADGP এম এফ ফারুকির নেতৃত্বাধীন একটি দল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে।
জলন্ধর রেঞ্জের DIG নবীন সিংলা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। NH-44-তে যান চলাচল ফের স্বাভাবিক করা হবে।
FIR দায়ের, SIT গঠন
পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ধর্ষণের অভিযোগের ভিত্তিতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে FIR দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT-ও গঠন করা হয়েছে।
নবীন সিংলা জানান, কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে তদন্তকারীরা ফরেনসিক প্রমাণ, CCTV ফুটেজ এবং কল রেকর্ড খতিয়ে দেখবেন।
সিংলা দাবি করেন, প্রায় ১৫ দিন আগে LPU-এর পড়াশোনা করা তেলঙ্গানার এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেন। পড়ুয়াদের তরফে ওঠা কোনও অনিয়ম বা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার LPU-এর
যদিও LPU ক্যাম্পাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা অস্বীকার করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের দাবি, এগুলি শুধুই গুজব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মনিকা গুলাটি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ খারাপ করার উদ্দেশ্যে কিছু সমাজবিরোধী ব্যক্তি মিথ্যে, ভিত্তিহীন এবং মনগড়া অভিযোগ ছড়াচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে একটি ভিডিয়ো বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে হস্টেলের ৫০৪ নম্বর ঘরের তিন ছাত্রীকে দেখা যায়। তাঁরা জানান, প্রায় দু’মাস ধরে তাঁরা ওই ঘরে থাকছেন। তাঁদের দাবি, সেখানে ধর্ষণের কোনও ঘটনা ঘটেনি। LPU জানিয়েছে, পুলিশি তদন্তে তারা সবরকম সহযোগিতা করবে।