
গঙ্গার বুকে জাল ফেলতে গিয়ে আচমকাই উঠে এল বিশালাকার একটি শিবলিঙ্গ। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, উদ্ধার হওয়া শিবলিঙ্গটি প্রায় ২,৫০০ বছরের পুরনো হতে পারে। যদিও সেই দাবির কোনও সরকারি বা বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি এখনও মেলেনি। ইতিমধ্যেই বিষয়টি জানানো হয়েছে পুরাতত্ত্ব দফতরকে।
বারাণসীর গঙ্গার ওপারে সুজাবাদ এলাকার শক্তি ঘাট সংলগ্ন নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে ওই শিবলিঙ্গ। স্থানীয় সূত্রে খবর, নদীতে মাছ ধরার সময় নৌকাচালকদের জালে আটকে যায় ভারী পাথরের একটি বস্তু। পরে সেটি টেনে তোলার পর দেখা যায়, সেটি একটি বড় শিবলিঙ্গ।
১০-১৫ জন মিলে তুলতে হয়েছে শিবলিঙ্গ
স্থানীয়দের দাবি, শক্তি ঘাট থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে গঙ্গার মধ্যে পাওয়া যায় শিবলিঙ্গটি। ওজন প্রায় দু’কুইন্টাল বলে অনুমান করা হচ্ছে। এতটাই ভারী ছিল যে, সেটিকে তুলতে ১০ থেকে ১৫ জন মানুষকে একসঙ্গে পরিশ্রম করতে হয়েছে।
উদ্ধারের পর শিবলিঙ্গটি গঙ্গার পাড়ে নিয়ে এসে সুজাবাদের গঙ্গা মন্দিরের বাইরে অস্থায়ী ভাবে রাখা হয়েছে। পরে সেটিকে একটি চাতালে স্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
‘মৌর্য যুগের হতে পারে’, দাবি স্থানীয়দের
শিবলিঙ্গটির আকার এবং পাথরের গঠন দেখে স্থানীয়দের একাংশের অনুমান, এটি অত্যন্ত প্রাচীন নিদর্শন। কেউ কেউ দাবি করছেন, এর বয়স প্রায় আড়াই হাজার বছর হতে পারে। আবার অনেকের মতে, এর সঙ্গে মৌর্য যুগেরও যোগ থাকতে পারে।
তবে এই সমস্ত দাবিই আপাতত স্থানীয় স্তরের অনুমান। শিবলিঙ্গটির প্রকৃত বয়স, ঐতিহাসিক গুরুত্ব বা উৎস সম্পর্কে এখনও কোনও সরকারি ব্যাখ্যা সামনে আসেনি।
দর্শনার্থীদের ভিড়
শিবলিঙ্গ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমাতে শুরু করেছেন ভক্তরা। গঙ্গা মন্দিরের বাইরে রাখা শিবলিঙ্গে পুজো ও প্রণাম করার জন্য প্রতিদিন বহু মানুষ আসছেন। অনেকেই একে মহাদেবের বিশেষ কৃপা বলেও মনে করছেন।
নমামি গঙ্গে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত দর্শন নিষাদ জানিয়েছেন, কালো পাথরের তৈরি এই শিবলিঙ্গটি ৫ জুন উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করে।
পুরাতত্ত্ব দফতরকে জানানো হয়েছে
স্থানীয়দের তরফে ইতিমধ্যেই পুরাতত্ত্ব দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়নি বলে দাবি। ফলে শিবলিঙ্গটির বয়স ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিয়ে জল্পনা অব্যাহত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্নতাত্ত্বিক পরীক্ষা ছাড়া কোনও প্রাচীন নিদর্শনের বয়স নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তাই উদ্ধার হওয়া শিবলিঙ্গটি সত্যিই কত পুরনো, তা জানতে এখন নজর পুরাতত্ত্ব দফতরের তদন্তের দিকে।