
মিরাটের চর্চিত নীল ড্রাম হত্যা কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত মুসকান রাস্তোগি এবং তাঁর বয়ফ্রেন্ড সাহিল শুক্লাকে মৃত্যুদণ্ড দিল উত্তরপ্রদেশের নিম্ন আদালত। বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে মুসকান তাঁর স্বামী সৌরভ রাজপুতকে হত্যা করেছিল। জেলা ও নগর দায়রা আদালকের বিচারক অরবিন্দ কুমার মিশ্র ঘটনার ২ বছর পর এই মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় দিলেন বুধবার।
শুনানির সময়ে এদিন বিচারক মহাভারতের উল্লেখ করে জানান, শাস্তিও এক ধরনের ধর্ম। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেল থেকে আদালতে হাজির হয়েছিলেন দুই দোষী। অন্যদিকে, আদালতে উপস্থিত ছিলেন সৌরভের মা রেণু রাজপুত এবং তাঁর ভাই।
২০২৫ সালের ৪ মার্চ খুন হন মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুত। পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, মুসকান ও সাহিল মিলে সৌরভের দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে একটি নীল ড্রামের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিল। ড্রামটি সিমেন্ট দিয়ে ভর্তি করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে দেহের অংশগুলি বাইরে থেকে বোঝা না যায়। তদন্তের পর দু'জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় সিমেন্টে ঢাকা সেই নীল ড্রাম, যার ভিতরে ছিল সৌরভের দেহের কাটা অংশগুলি।
দোষীদের সাজা ঘোষণার পর সৌরভের মা রেণু রাজপুত বলেন, 'যে সমস্ত দম্পতি একসঙ্গে থাকতে চান না, তাঁদের উচিত আলাদা হয়ে যাওয়া। কিন্তু কোনও ভাবেই হিংসার পথ বেছে নেওয়া উচিত নয়।' তাঁর কথায়, 'যদি একসঙ্গে থাকতে না চাও, তাহলে আলাদা হয়ে যাও। কিন্তু কারও সন্তানকে খুন করো না। আমাদের এখনও মনে হয়, আমাদের সন্তান কোথাও যায়নি। বাড়ির প্রতিটি কোণে ওর স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। এমন অপরাধ করলে তার পরিণতি ভোগ করতেই হবে। যদি কেউ এমন কাজ করে, তাহলে তার মৃত্যুদণ্ডই হওয়া উচিত।'
এদিন আদালতে মুসকানের বাবা-মাও একটি লিখিত বক্তব্য জমা দেন। সেখানে তাঁরা জানান, তাঁদের মেয়েকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে তাতে তাঁদের কোনও আপত্তি থাকবে না। অন্যদিকে, সৌরভের পরিবারও দুই দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছিল।