
দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকার বিরোধী আন্দোলন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রদবদলের জল্পনার মধ্যেই ইস্তফা কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এল মুরুগানের। একই সঙ্গে রাজ্যসভার সদস্যপদও ছেড়ে দেওয়ারও ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লেখা একটি বিস্তারিত চিঠিতে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মুরুগান। তাঁর বক্তব্য, এবার থেকে তামিলনাড়ুতে বিজেপির সংগঠন আরও শক্তিশালী করা এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে সম্পূর্ণ সময় দিতে চান তিনি। তবে তাঁর ইস্তফা গৃহীত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে মুরুগান জানিয়েছেন, মোদীর নেতৃত্বে পাঁচ বছর কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রিসভায় কাজ করার সুযোগ তাঁর জীবনের অন্যতম বড় সম্মান। কিন্তু এবার তিনি সেই কাজে ফিরতে চান, যা তাঁকে সক্রিয় রাজনীতিতে আসতে অনুপ্রাণিত করেছিল। তামিলনাড়ুতে বিজেপির সংগঠন বিস্তার এবং আগামী লোকসভা নির্বাচনে দলের অবস্থান শক্তিশালী করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
দিনমজুরের পরিবার থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী
নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথা বলতে গিয়ে এল মুরুগান জানিয়েছেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান নন। তাঁর বাবা-মা দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। তাঁরা গবাদি পশু চরানোর কাজও করতেন। তাঁর দাবি, আজও তামিলনাড়ুর কোনুর গ্রামের বাড়িতে তাঁর পরিবার সাধারণ জীবনযাপন করে।
মুরুগান জানিয়েছেন, তাঁর বাবা-মা কখনও কল্পনাও করেননি যে তাঁদের ছেলে একদিন কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী হবেন। তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের পিছনে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্ব এবং বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিজেপিতে তৃণমূল স্তরে কাজ করা কর্মীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
কলেজে পড়ার সময় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন মুরুগান। পরবর্তী সময়ে প্রায় তিন দশক ধরে এবিভিপি ও বিজেপির সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মূল মন্ত্র, ‘সবার আগে দেশ, তার পরে দল এবং সবার শেষে নিজে’।
দু'বারের রাজ্যসভার সাংসদ, পাঁচ বছর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়
এল মুরুগান দু'বার রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশনের উপাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। গত পাঁচ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।
এই সময়ে তথ্য ও সম্প্রচার, সংসদীয় বিষয়ক এবং মৎস্য ও পশুপালন সংক্রান্ত দফতরে দায়িত্ব সামলেছেন মুরুগান। চিঠিতে তামিলনাড়ুর উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসাও করেছেন তিনি। চেন্নাই মেট্রো প্রকল্প, তুতিকোরিন বন্দরের সম্প্রসারণ, জাতীয় সড়কের উন্নয়ন এবং অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের ২৬টি রেলস্টেশনের পুনর্নির্মাণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন তিনি। মুরুগানের বক্তব্য, তামিলনাড়ু-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপত্তা এবং ভারতীয় মৎস্যজীবীদের কল্যাণের মতো বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে সাহায্য করেছেন।
গ্রামে গ্রামে গিয়ে সংগঠন মজবুত করার পরিকল্পনা
এবার তামিলনাড়ুর বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করতে চান মুরুগান। তাঁর পরিকল্পনা, রাজ্যের প্রতিটি গ্রাম ও অলিগলিতে গিয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং দলের কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো। রাজ্যের সর্বত্র বিজেপির সাংগঠনিক উপস্থিতি বাড়ানোর উপরেও জোর দিতে চান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস’ বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন মুরুগান। তাঁর লক্ষ্য, দেশের উন্নয়নের যাত্রায় প্রতিটি পরিবারকে সামিল করার পাশাপাশি ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তামিলনাড়ুতে বিজেপির জনভিত্তি আরও বিস্তৃত করা।
চিঠিতে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, আগামী লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে নিজের সম্পূর্ণ শক্তি নিয়োগ করবেন। তামিলনাড়ু থেকে বিজেপির আসনসংখ্যা বাড়ানো এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে দলকে আরও একটি মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরানোর ক্ষেত্রে অবদান রাখতে চান তিনি। চিঠির শেষে মুরুগান জানিয়েছেন, একজন দিনমজুরের ছেলের উপর প্রধানমন্ত্রী যে আস্থা রেখেছেন, তা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান হয়ে থাকবে। এবার সাধারণ মানুষ ও দলের কর্মীদের মধ্যে থেকে কাজ করে সেই আস্থার মর্যাদা রাখতে চান তিনি।