
দেশে বর্ষার এন্ট্রি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনও বিস্তীর্ণ ভূ-ভাগ চাতক পাখির মতোই বৃষ্টির অপেক্ষায় রয়েছে। গত ১৪৬ বছরের মধ্যে এই জুন মাস হয়ে উঠেছে দেশের শুষ্কতম জুন। এবছরে ৪ জুন কেরলমে বর্ষা শুরু হয়। এরপর তা দক্ষিণ, পূর্ব এবং উত্তর-পূর্বের বেশিরভাগ অংশে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ১৫ জুনের পর হঠাৎ থেমে যায়।
শেষ দু'সপ্তাহের দিকে নজর রাখলে দেখা যাচ্ছে, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ৪০ শতাংশেরও বেশি বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ছিল। মধ্য ভারতে ৬০ শতাংশেরও বেশি বৃষ্টিপাতের ঘাটতি দেখা গিয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় এখন বৃষ্টি ফিরেছে, কিন্তু জুনের ঘাটতি পূরণ করতে সময় লাগবে।
আবহাওয়া দফতর বলছে, বর্ষা থেমে যাওয়ার পিছনে কোনও একটি নির্দিষ্ট কারণ নেই। বরং ৫টি বিভিন্ন কারণেই এবার বর্ষার হাল বেহাল। সেই ৫টি ভিলেন কী কী দেখে নেওয়া যাক।
১. দুর্বল এমজেও
প্রথম কারণটি হলো একটি দুর্বল এমজেও (ম্যাডেন জুলিয়ান অসিলেশন)। এটি মেঘ ও ঝড়ের একটি বিশাল তরঙ্গ যা প্রতি ৩০ থেকে ৬০ দিনে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। যখন এটি ভারত মহাসাগরের উপর দিয়ে যায়, তখন বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়ে। জুন মাসে এটি অগ্রসর হয়েছিল এবং বৃষ্টিপাতের তীব্রতাও বেড়ে গিয়েছিল।
২. দুর্বল সোমালি জেট
দ্বিতীয় কারণটি হলো একটি দুর্বল সোমালি জেট। এটি এমন একটি বায়ুপ্রবাহ যা আফ্রিকা থেকে আরব সাগরের মধ্য দিয়ে ভারতে আর্দ্রতা বয়ে আনে। এই বায়ুপ্রবাহটি এবার খুব দুর্বল।
৩. উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ুর প্রভাব
তৃতীয় কারণটি হল উত্তর-পশ্চিম ভারত এবং পশ্চিম এশিয়ার মরুভূমি থেকে আসা উষ্ণ, শুষ্ক বায়ু। এই বায়ুপ্রবাহটি মধ্য ভারতের উপর একটি চাদরের মতো প্রভাব তৈরি করেছিল, যা মেঘকে বৃষ্টিতে পরিণত হতে বাধা দিচ্ছে।
৪. ভারত মহাসাগরীয় ডাইপোল
চতুর্থ কারণটি হলো ভারত মহাসাগরীয় ডাইপোলের স্বাভাবিক থাকা। এটি হলো ভারত মহাসাগরের দুটি অংশের মধ্যে তাপমাত্রার পার্থক্য। এবার এটি বর্ষাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়নি।
৫. বঙ্গোপসাগরে ডিপ্রেশন সিস্টেমের অভাব
পঞ্চম কারণটি হলো বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ব্যবস্থার অভাব। এই ব্যবস্থাগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ অংশে বৃষ্টি নিয়ে আসে।
তবে এল-নিনো নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। মার্কিন সংস্থা এনওএএ (NOAA) জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে এল নিনো ঘোষণা করেছে। তবে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, জুনের নিম্ন তাপমাত্রার উপর এর প্রভাব ছিল ন্যূনতম। এর বড় প্রভাব জুলাই, অগাস্ট এবং সেপ্টেম্বরে দেখা যেতে পারে।