
বিদায় নেওয়ার পথে বর্ষা। তবে এখনও পর্যন্ত দেশজুড়ে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই কম বৃষ্টি হয়েছে। ফলে ভারতের কৃষি অর্থনীতি এবং খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গকে উদ্ধৃত করে 'বিজনেস টুডে'র রিপোর্টে দাবি, গত ১৭ বছরের মধ্যে এবার ভারতে সবচেয়ে কম বর্ষা। এল নিনো শক্তিশালী হওয়ার ফলে কম হয়েছে বৃষ্টি। এর জেরে ফসলের উৎপাদন এবং মূল্যবৃদ্ধির হার নিয়েও বাড়ছে আশঙ্কা।
ভারতের মৌসম ভবনের (IMD) পরিসংখ্যান বলছে, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষার মরসুমে দেশে মোট বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় ১৫ শতাংশ কম হয়েছে। এই ঘাটতি থাকলে ২০০৯ সালের পর এবারই সবচেয়ে দুর্বল বর্ষা হতে পারে। ২০০৯ সালে স্বাভাবিকের তুলনায় ১৮ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছিল। চলতি বছরের মে মাসে বর্ষার মরসুমে ১০ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতির পূর্বাভাস দিয়েছিল মৌসম ভবন।
ভারতের জন্য বর্ষা এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
ভারতের কৃষি অর্থনীতির জন্য বর্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের কোটি কোটি কৃষক তাঁদের জমিতে সেচের জন্য বর্ষার বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চাল, চিনি এবং তুলা উৎপাদক দেশ। ফলে চলতি বছর বর্ষার ঘাটতি ফসলের উৎপাদনেও প্রভাব ফেলতে পারে। এর জেরে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা।
অগাস্টে খাদ্য মূল্যবৃদ্ধির হার টানা সপ্তম মাসে বেড়ে ৫.৯৫ শতাংশে পৌঁছেছে। চলতি বছরে এটাই এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ। দেশের একাধিক শহরে চিনি ও পেঁয়াজের খুচরো দাম কেজিতে ৭০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি চালের দামও ২০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার চাল, আখ এবং ভুট্টার চাষের পরিমাণও কমেছে।
কী পদক্ষেপ করেছে সরকার?
তবে কম বৃষ্টি এবং বাড়তে থাকা দামের মধ্যে বাজারে জোগান বাড়াতে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। করমুক্ত চিনি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভর্তুকিযুক্ত দামে কেজি প্রতি ৩৫ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করছে সরকার।
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় ও ঘাটতি
অস্ট্রেলিয়ার 'গ্লোবাল ওয়েদার ক্লাইমেট অ্যানালিটিক্স'-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্রিশ্চিয়ান ভের্নার জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে একটি সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে। এর ফলে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। উষ্ণ সমুদ্রের জলের উপর তৈরি হওয়া এই ধরনের ঝড়কে 'ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়' বলে। এর প্রভাবে প্রবল হাওয়া, ভারী বৃষ্টি এবং সমুদ্রে বড় ঢেউ তৈরি হতে পারে।
তবে ক্রিশ্চিয়ান ভের্নারের বক্তব্য, এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দেশে সামগ্রিক বৃষ্টির ঘাটতিতে খুব একটা পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাঁর অনুমান, বর্ষায় বৃষ্টির ঘাটতি ১৩ থেকে ১৬ শতাংশের মধ্যেই থাকতে পারে।
২০% পর্যন্ত বর্ষার ঘাটতি?
চলতি বছর দুর্বল বর্ষার পূর্বাভাস দিয়েছেন ল্যাঙ্কাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া পূর্বাভাস সংক্রান্ত ক্রুশিয়ালের গবেষক ও আবহবিদরা। পূর্বাভাসে ৬৮ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে যে এবার বর্ষায় স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ কম বৃষ্টি হতে পারে।