
MP Train Accident: মধ্যপ্রদেশের মোরেনার কাছে ঘটে গেল এক অত্যন্ত মর্মান্তিক ও ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা। পাতালকোট এক্সপ্রেস এবং উদয়পুর ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসের যাত্রীদের সঙ্গে এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে যে আচমকাই ট্রেনের একটি কামরায় আগুন লেগেছে বলে তীব্র গুজব রটে যায়। এই আগুনের খবরে যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে ট্রেনের কামরা থেকে যাত্রীরা হুড়মুড়িয়ে লাইনের ওপর ঝাঁপ দিতে শুরু করেন। ঠিক সেই সময় ওই লাইনের ওপর দিয়ে আসা অন্য একটি ট্রেনের ধাক্কায় বেশ কয়েকজন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে এবং অনেকে গুরুতর জখম হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী ট্রেনের কামরায় আগুন লাগার খবরটি বাতাসের গতিতে বিভিন্ন কোচে ছড়িয়ে পড়েছিল। কোনও কিছু না ভেবেই জীবন বাঁচাতে বহু যাত্রী তড়িঘড়ি ট্রেন থেকে নামার চেষ্টা করেন। আতঙ্কের চোটে তারা পাশের রেল ট্র্যাকে নেমে পড়েন তবে তারা বুঝতে পারেননি যে সমান্তরাল ওই লাইনে অন্য একটি ট্রেন ধেয়ে আসছে। চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত সেখানে পৌঁছান রেলের পদস্থ আধিকারিক পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল। আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হয়েছে।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতিমধ্যেই ভারতীয় রেলের উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কীভাবে এই ট্রেনের কামরায় আগুন লাগার ভুয়ো গুজব ছড়িয়ে পড়ল আদৌ কোনো আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল কিনা এবং ঠিক কী পরিস্থিতির কারণে যাত্রীরা লাইনে ঝাঁপ দিতে বাধ্য হলেন তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। রেল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে এই ধরনের আতঙ্কজনিত পরিস্থিতিতে সক্রিয় রেললাইনের ওপর ঝাঁপ দেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ সমান্তরাল লাইনে অন্য ট্রেনের গতিবিধি সম্পর্কে যাত্রীরা অন্ধকারে থাকেন যার ফলে মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। অতীতেও ভারতে আগুন বা ধোঁয়ার গুজবে চেন টেনে লাইনে নামার ফলে এমন বহু দুর্ঘটনা ঘটেছে।
ভবিষ্যতে এই ধরণের দুর্ঘটনা এড়াতে রেলের পক্ষ থেকে কিছু জরুরি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র কোনো গুজবের ওপর ভিত্তি করে চলন্ত বা থমকে যাওয়া ট্রেন থেকে লাইনের ওপর ঝাঁপ দেওয়া একেবারেই উচিত নয়। ট্রেনের ভেতর কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে তা সর্বদা রেলের কর্মী বা অনবোর্ড কর্মীদের কাছ থেকে যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন। যদি কোনো কারণে ট্রেন থেকে দ্রুত খালি করার পরিস্থিতি তৈরিও হয় তবে সর্বদা রেলের আধিকারিকদের দেওয়া নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে। যাত্রীদের সবসময় মনে রাখতে হবে যে পাশের ট্র্যাকে যেকোনো সময় দ্রুতগতির অন্য ট্রেন চলে আসতে পারে।