
রুটিরুজির টানে সুদূর মরুশহরে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই যাত্রাই যে শেষ যাত্রা হবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি ওড়িশার গঞ্জামের বাসিন্দা কুনা খুন্তিয়া। চার মাস আগে কাতারে শ্রমিকের কাজে যোগ দেওয়া এই শ্রমিকের নিথর দেহ বৃহস্পতিবার সকালে দেশে ফিরে এল। বিদেশ মন্ত্রক এবং ওড়িশা সরকারের যৌথ তৎপরতায় এদিন সকালে বিজু পট্টনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় কুনার কফিনবন্দি দেহ। প্রিয়জনের দেহ ফিরে পেলেও শোকস্তব্ধ পরিবার এখন বিচার ও সাহায্যের আশায় দিন গুনছে।
গঞ্জাম জেলার খল্লিকোট ব্লকের বাসিন্দা কুনা খুন্তিয়া মাস চারেক আগে একটি বেসরকারি সংস্থায় শ্রমিকের কাজে কাতার গিয়েছিলেন। কিন্তু গত ৬ মার্চ তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছায় ভিটেমাটিতে। পরিবারের কাছে আসা খবর অনুযায়ী, কাজ শেষে নিজের ঘরে বিশ্রাম নেওয়ার সময় আকস্মিকভাবেই মৃত্যু হয় কুনার। মর্মান্তিক এই খবরের পর থেকেই কুনার দেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে সপরিবারে আবেদন জানিয়েছিলেন পরিজনরা।
বৃহস্পতিবার সকালে বিমানে কুনার মরদেহ ভুবনেশ্বরে আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন উপস্থিত আত্মীয়রা। বিমানবন্দরে মরদেহটি গ্রহণ করেন খল্লিকোটের বিধায়ক পূর্ণচন্দ্র শেঠি এবং ওড়িশা পরিবারের ওএসডি প্রীতীশ পাণ্ডা। সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করে মৃতদেহটি তাঁর পৈত্রিক গ্রামে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। প্রশাসনের এই তৎপরতায় অন্তত শেষবারের মতো প্রিয়জনকে দেখার সুযোগ পেল পরিবার।
এদিকে, ওড়িশা বিধানসভার চলতি অধিবেশনে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেশ করেন শ্রমমন্ত্রী গণেশ রাম সিংহখুন্তিয়া। তিনি জানান, ওড়িশা সরকার ও বিদেশ মন্ত্রকের যৌথ উদ্যোগে ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে মোট ২৯ জন শ্রমিকের মরদেহ বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কুনা খুন্তিয়ার ঘটনাটি ফের একবার প্রবাসে কর্মরত শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তার দিকে আঙুল তুলে ধরল।
শ্রমমন্ত্রী আরও জানান, কেবল মৃতদেহ ফেরানোই নয়, গত দুই বছরে বিপদে পড়া ১৪২ জন শ্রমিককেও বিভিন্ন দেশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরিসংখ্যাত অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ১১৭ জন এবং ২০২৫ সালে ২৫ জন শ্রমিককে সরকারি সহায়তায় দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষায় তাদের দায়বদ্ধতার বিষয়টিই এদিন হাউসে তুলে ধরেছে।
কুনার মরদেহ এদিন তাঁর গ্রামে পৌঁছাতেই শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকায়। মাত্র চার মাস আগেই যে যুবক পরিবারের সচ্ছলতার আশায় চোখের জলে বিদায় নিয়েছিলেন, আজ তাঁর কফিনবন্দি হয়ে ফেরা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রবাসে ওড়িয়া শ্রমিকদের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে, যার গভীরে যাওয়া প্রয়োজন।